প্রথমবারের মতো সিলেটে হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুর দেহে বসানো হলো রিং

ঢাকার বাইরে প্রথমবারের মতো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুর দেহে রিং বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে গত দুই দিনে ছয়টি শিশুর দেহে এ অস্ত্রোপচার করা হয়। আজ রোববারের মধ্যে আরও তিন শিশুর অস্ত্রোপচারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার জন্মগতভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত তিন শিশুর দেহে ডিভাইস (রিং/বেলুন) বসানো হয়। আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত আরও তিন শিশুর দেহে একই রকমভাবে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং বিকেলের মধ্যে আরও তিন শিশুর দেহে ডিভাইস বসানোর কথা আছে। এসব শিশুর বয়স ৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় কার্ডিওলজি বিভাগের ক্যাথ ল্যাবে হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের আয়োজনে ও শিশু বিভাগের সহযোগিতায় এসব অস্ত্রোপচার হয়।
সূত্রের তথ্যমতে, অস্ত্রোপচারে সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ‘মুন্তাদা এইড’ রোগীর দেহে বিনা মূল্যে ডিভাইস বসানোর পুরো ব্যয় বহন করেছে। এ অস্ত্রোপচারের কাজে ১০ জনের দলটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান রিজওয়ানা রিমা। মূলত শিশুদের হৃৎপিণ্ডের জন্মগত ত্রুটি দূর করতেই এ ডিভাইস লাগানো হয়।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি সিলেটবাসীর জন্য নতুন দ্বার উন্মোচন করল। ঢাকার বাইরে হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের দেহে অস্ত্রোপচারের ঘটনা এটাই প্রথম। ঢাকায় একই কাজ করাতে রোগীর পরিবারকে জনপ্রতি দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ করতে হতো। সেটা এখানে তারা বিনা মূল্যে করতে পেরেছে।
এর আগে ডিভাইস বসানো উপলক্ষে গতকাল সকালে এক আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ওসমানী হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান। বক্তব্য দেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, উপপরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শুয়াইব আহমদ (শোয়েব)।
সূত্র : প্রথম আলো
on/abr