বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

Homeআন্তর্জাতিক‘ড. ইউনূসের প্রতি উগ্রপন্থীদের সমর্থন সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে’

‘ড. ইউনূসের প্রতি উগ্রপন্থীদের সমর্থন সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে’

বাংলাদেশি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি উগ্র ইসলামপন্থীদের অপ্রত্যাশিত সমর্থন কোনো ঘরোয়া বিষয় নয় বরং এটি একটি বিরক্তিকর প্রবণতার ইঙ্গিত দেয় যা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আলোকে।

এই প্রবণতা জনমতের হেরফের ও ক্ষমতাসীন দলের বিরোধীদের, প্রধানত কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী উপদলগুলোর মতকে মোটাদাগে তুলে ধরে যা মূলত জনগণের মুক্তমতকে দূষিত করার একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

এই জাতীয় কৌশলগুলো আপাতত দূরবর্তী উপকূলে সীমাবদ্ধ থাকলেও তা যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ যুক্তরাজ্য এখন উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের শীর্ষে রয়েছে।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক আবরণে ব্যাখ্যা করতে গেলে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের আইনি জটিলতা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি বিস্তৃত ত্রুটিযুক্ত প্যাটার্নেরই প্রতিফলন। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর অধীনে অভিযুক্ত ড. ইউনূস দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে দেশের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এসব দলাদলি বাস্তবিক অর্থে দেশের আইনি প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে এবং ড. ইউনূসকে সরকারের নিপীড়নের শিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু চলমান এই নাটকীয়তা আপাতদৃষ্টিতে ন্যায়বিচারকে সমর্থন করে বলে মনে হলেও বাস্তবে প্রায়ই তা নিজেদের চরমপন্থী এজেন্ডাকে এগিয়ে নিচ্ছে।

একসময়কার উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক ড. ইউনূস ও তার সহযোগীরা গুরুতর আইনি প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হয়েছেন। এতে তার অতীতের তারকাখ্যাতি উল্লেখযোগ্যভাবে নষ্ট হয়েছে।

১ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে ঢাকার একটি শ্রম আদালতের রায়ে ড. ইউনূস ও তার সহযোগীদের ছয় মাসের জেল ও আর্থিক জরিমানা ঘোষণা করা হয়েছে।

বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা তার রায়ে বলেন, কোম্পানিটি ৬৭ জন অস্থায়ী কর্মচারীকে স্থায়ী করতে ব্যর্থ হয়ে, কর্মচারীদের জন্য কল্যাণ তহবিল তৈরি না করে ও তাদের মধ্যে কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ বণ্টনে ব্যর্থ হয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে।

ড. ইউনূসকে জামিন দেওয়া হলেও তার আপিল বিচারধীন। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার একটি সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশি ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড ইনস্টিটিউশন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিত্বকারী সরকারি আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, সাজাটি যথাযথ এবং ইউনূসের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হয়েছে।

যদি রাজনৈতিক অভিযোগে যথেষ্ট সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে ডক্টর ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও শাস্তি আরও গুরুতর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু সমালোচকের দাবির বিপরীতে আদালতের রায়ের প্রকৃতি তুলনামূলক বিবেচনা করলে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অযাচিত প্রভাব ছাড়াই ন্যায়বিচার করা হতে পারে।

বাস্তবতাকে পাল্টে দেওয়ার মানসিকতা বজায় রেখে আদালতের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণ করার জন্য পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়েছে কট্টরপন্থী ইসলামী দলগুলো। নিপীড়িতদের রক্ষা করার আড়ালে তারা তাদের এজেন্ডাকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের স্থানীয় বৈশিষ্ট্য হলেও এর প্রভাব দেশের সীমানার বাইরেও লক্ষণীয়।

এক্সপ্রেস ইউকে থেকে অনূদিত

লেখক- ক্যাথেরিন শাকদাম পেরেজ, ফরাসি সাংবাদিক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

- Advertisement -spot_img
এই রকম আরো পোস্ট
- Advertisment -spot_img

সর্বশেষ