বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

Homeশিক্ষাবন্ধুর বই পড়ে সহকারী জজ হলেন ইবির আসাদুজ্জামান

বন্ধুর বই পড়ে সহকারী জজ হলেন ইবির আসাদুজ্জামান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান নূর। স্নাতকোত্তর শেষ না হতেই বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) নিয়োগ পরীক্ষায় সহকারী জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। সারাদেশে উত্তীর্ণ ১০৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০তম তিনি।

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার মৃত মো. নূর বাদশার দ্বিতীয় সন্তান নূর। এসএসসিতে জিপিএ ফাইভ এবং এইচএসসিতে ৪.৩৩ জিপিএ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৭ সালে ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ইবির আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগে ভর্তি হন।

২০১২ সালে নূর বাবাকে হারান। সবেমাত্র এসএসসি পাস করেছেন। তখন থেকেই মা মোছা. রশিদা পারভীনের অনুপ্রেরণায় এই পর্যায়ে আসা নূরের। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হওয়ার পর শুরুর দিকে পড়াশোনায় তেমন মনোযোগী ছিলাম না। করোনার সময় জীবন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। অনিশ্চয়তার জীবনে নিজেকে বদলানোর প্রয়াসে ধর্ম পালন এবং পড়াশোনায় মনোযাগী হই।

বই কেনার তেমন সামর্থ ছিল না। কারণ প্রথম বর্ষ থেকেই উপবৃত্তির টাকায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতাম। পরবর্তীতে আমার বন্ধু হোসনে মোবারক সাগর এবং মোহাম্মদ নাজ্জাসির বই নিয়ে আমি পড়াশোনা শুরু করি। বিজেএসসির প্রিলি হতে লিখিত পুরোটা সময় আমি তাদের বই পড়েছি। এ ছাড়াও জুডিশিয়ারীর দিক নির্দেশনায় আমি সবথেকে বেশি সহায়তা পেয়েছি সাকিব আহমেদ ইমন ভাইয়ের থেকে। যিনি ১৫তম বিজেএসসি পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ প্রাপ্ত। আজীবন ভাইয়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।

নূর আরও বলেন, ইমন ভাই আমাকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করতো। বলতো নূর তুমি পারবে। তিনি আমার আপন ভাইয়ের মতো সহযোগিতা করেছেন। সবথেকে বেশি কৃতজ্ঞ থাকবো আমার মায়ের কাছে, সেই ছোট থেকেই আমার প্রতিটা সিদ্ধান্তে তিনি সব সময়ই আমার পাশে ছিলেন। সাহস জুগিয়েছেন। আমার আজকে যা অর্জন তার পুরোটাই আমার মায়ের অর্জন বলে আমি মনে করি। অনেক বছর অপেক্ষায় ছিলাম মাকে একটা সুসংবাদ জানাবো, মায়ের হাসিমাখা মুখটা দেখবো। অনেক দিন মাকে হাসিমুখে দেখিনি। আল্লাহ তা’আলা আমার ফরিয়াদ কবুল করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

ইবির এই শিক্ষার্থী বলেন, আজ আমার এই অর্জনে যে মানুষটা সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন, সে মানুষটা আমার বাবা। সেই মানুষটা আজ আর নেই। এটাই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ। এছাড়া আমার কোনো দুঃখ নেই।

পড়াশোনার বিষয়ে নূর বলেন, আমি ফজরের নামাজ পড়ে পড়াশুনা শুরু করতাম। যতক্ষণ ক্লান্ত না হতাম ততক্ষণ পড়ার চেষ্টা করতাম। সবসময় চেষ্টা করেছি বুঝে পড়ার। একটা বিষয় কয়েকবার পড়ার চেষ্টা করেছি। সর্বোপরি মায়ের ইচ্ছে পূরণে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। আর আল্লাহ কাছে সাহায্য চেয়েছি। সবার দোয়া আর নিজের প্রচেষ্টার সম্মিলিত প্রয়াস আজকের এই সফলতা।

এই সফলতার পিছনে বিভাগের শিক্ষকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নূর।

নূরের সফলতায় উচ্ছ্বসিত সহপাঠী, শিক্ষক ও বড় ভাইয়েরা। এ বিষয়ে নূরের আবাসিক হলের বড় ভাই শাহজালাল ইসলাম সোহাগ বলেন, নূর কঠোর পরিশ্রমী ছিল। আমি তাকে পড়তে দেখে ঘুমিয়ে যেতাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে তাকে পড়তে দেখতাম। এছাড়াও নূরের বড় গুণ, সে খুব বিনয়ী।

- Advertisement -spot_img
এই রকম আরো পোস্ট
- Advertisment -spot_img

সর্বশেষ