বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত (নিবন্ধন নং -২৪)

Homeসারাদেশরংপুরে নৌকা বাইচ উৎসবে মানুষের ঢল

রংপুরে নৌকা বাইচ উৎসবে মানুষের ঢল

ঘাঘট নদীর বুকে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। বৈঠার ছন্দে উত্তাল নদীর দুই পাড়। থেমে থেমে হৈ হুল্লোড় আর হাততালি। গ্রাম-বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার ছন্দে অন্যরকম আনন্দের রেশ। লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে নদীর দুই তীর। নৌকা বাইচ উৎসব ঘিরে শান্ত ঘাঘটে ফেরে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এমনই আনন্দঘন পরিবেশে রংপুর নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেননগরে ঘাঘট নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ উৎসব। হোসেননগর যুব সমাজ এই উৎসবের আয়োজন করে।

দুপুর ২টায় নৌকা বাইচ উৎসব শুরু হয়ে শেষ হয় সন্ধ্যায়। ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ উৎসবে রংপুর, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত মাঝি-মাল্লাদের ১৬টি দল নৌকা নিয়ে অংশ নেয়।

এদিন নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে মেলা। এতে হাজারো মানুষের সমাগম হয়। তবে রঙ-বেরঙে সাজানো দৃষ্টিনন্দন নৌকা আর মাঝি-মাল্লাদের সুর নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আগামীতে আরও বড় পরিসরে নৌকা বাইচ উৎসবের দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীসহ স্থানীয়রা।

এর আগে দুপুর ১২টা থেকে ঘাঘটের দুই পাড়ে মানুষের আনাগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রংপুর নগরী ছাড়াও আশপাশের উপজেলা এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসতে থাকে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিকেলের আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ঘাঘটের দুই তীর। নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা সড়ক সেতুতেও ছিল মানুষের ঢল।

প্রতিযোগীরা বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দের তালে তালে কণ্ঠে তোলেন গান। সেতুর ওপরসহ নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকরা মাঝি-মাল্লাদের উৎসাহিত করতে কখনো হাত উঁচিয়ে, কখনো করতালিতে অভিবাদন জানান।

নৌকা বাইচ দেখতে দুপুর থেকে নদীর পাড়ে ভিড় করতে থাকা শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষরা প্রতি বছর নৌকা বাইচ উৎসবের আয়োজনের পাশাপাশি ঘাঘটের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।

স্থানীয় সংগঠক একেএম সুমন বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে তামপাট ইউনিয়ন ছিল। এটি বর্তমানে সিটির বর্ধিত এলাকা। এই ওয়ার্ডসহ আশপাশের ওয়ার্ডগুলোতে বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। প্রতি বছর নৌকা বাইচ বিনোদনপ্রেমীদের মনের খোরাক যোগায়। হাজারো মানুষের ভিড়ে এমন ঐহিত্যবাহী উৎসব দেখতে পেরে আমরা সকলে আনন্দিত।

এদিকে আয়োজকরা বলছেন, আগে নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নদী না বাঁচলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে নদী কেন্দ্রীক ঐতিহ্য, পেশা, জীবন ও প্রকৃতি। দ্রুত তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, আখিরা, করতোয়া ও শ্যামাসুন্দরীসহ সকল নদ-নদী ও খাল খনন, শাসন ও সঠিক পরিচর্যার দাবি জানিয়েছেন তারা।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তৃতীয়বারের মতো হোসেননগর যুব সমাজ এই নৌকা বাইচের আয়োজন করেন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ মোহাম্মদ মাসুদ রানা জানান, ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ঘাঘটে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। এবার বড় পরিসরে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদীতে খুব বেশি পানি না থাকায় সাড়া মেলেনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এতে স্থানীয় ছাড়াও বাহিরের তিন জেলার মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে ১৬টি দল অংশ নেয়।

তিনি আরও জানান, উৎসবে প্রথম স্থান অর্জনকারী বালাসি তুফানের দলকে একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় স্থানে থাকা সোনার তরী দলকে একটি ফ্রিজ এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে একটি এলইডি টেলিভিশন উপহার দেওয়া হয়। এছাড়াও চতুর্থ স্থানে থাকা দলকে একটি স্মার্ট ফোন দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার বেশি বেশি আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে মানুষের মন ভালো থাকবে। আমরা আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই প্রতিযোগিতা করব। গত বছরের মতো এ বছরও সিটি কর্পোরেশন থেকে এই আয়োজনে পৃষ্টপোষকতা করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি করছি, নদীকে বাঁচানোর সঙ্গে নদী কেন্দ্রিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হোক।

- Advertisement -spot_img
এই রকম আরো পোস্ট
- Advertisment -spot_img

সর্বশেষ