শনিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৩

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeজাতীয়পাচার করা অর্থ উদ্ধার অত্যন্ত জটিল: অর্থমন্ত্রী

পাচার করা অর্থ উদ্ধার অত্যন্ত জটিল: অর্থমন্ত্রী

সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘পাচার করা অর্থ উদ্ধার অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন পদ্ধতিগত ও আইনি জটিলতার কারণে অর্থ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। অর্থ পাচারের পরিমাণ নির্ধারণও অত্যন্ত দুরহ বিষয়।’

জাতীয় সংসদের বৈঠকে প্রশ্নোত্তরে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আজ মঙ্গলবার এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

জাতীয় পার্টির মসিউর রহমান রাঙ্গার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, গবেষণা সংস্থা বিভিন্ন ধরনের মেথোডলজি ব্যবহার করে পাচার করা অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে প্রাক্কলন করে, যার যথার্থতা ওইসব প্রতিষ্ঠানও দাবি করে না। এসব সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ হতে কী পরিমাণ অর্থপাচার হয় সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পরিলক্ষিত হয়। বস্তুত, অর্থপাচারের পরিমাণ নির্ধারণ অত্যন্ত দুরূহ বিষয়। তবে দেশ থেকে অর্থপাচারের মাত্রা বা পরিমাণ যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎসগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি অর্থপাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকারের সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।’

সরকারের পদক্ষেপে অবৈধ অর্থ পাচার আগামীতে অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করে মুস্তাফা কামাল বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। বিভিন্ন পদ্ধতিগত ও আইনি জটিলতার কারণে অর্থ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়। বাংলাদেশ হতে অর্থ পাচারের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারী বা পাচারকৃত অর্থের বিষয়ে বিদেশি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হতে তথ্য সংগ্রহ করে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহ করে আসছে। বিদেশে (যথা-সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ইত্যাদি) ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থ পাচার বিষয়ক বেশকিছু মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়েরকৃত পাচার সংশিতষ্ট বেশকিছু মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে এটর্নি জেনারেল মহোদয়ের নেতৃত্বে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের সাথে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা প্রদানকল্পে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে বৈদেশিক ঋণ জিডিপির শতকরা হার অনুযায়ী বাংলাদেশ ঝুঁকি সীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিমুক্ত ও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় কোন ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। আইএমএফের প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২০৩২ সাল পর্যন্ত দেশীয় ঋণসহ বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত।’

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর মতে বৈদেশিক ঋণ জিডিপির ঝুঁকিসীমা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ জিডিপির অনুপাত ছিল ১২ দশমিক ২। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ১৩ দশমিক ৭৮। এই ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, সেটি ১৬ দশমিক ৯।

ওয়ার্কার্স পার্টির বেগম লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মেয়াদে ঋণ খেলাপির দায়ে ২১৭ জনকে জেলে পাঠানো হয়েছে। ঋণ খেলাপির দায়ে ১২জন কৃষককে জেলে নেওয়ার ঘটনাটি (পাবনায়) বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাভুক্ত কোনো তফসিলি ব্যাংক নয়। আদালতের এখতিয়ারভুক্ত ঋণ খেলাপির দায়ে জেলে পাঠানোর ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।’

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নাজমা আকতারের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে কৃষি ঋণ ব্যতীত সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদের হার ৮ শতাংশ। আমানতের ওপর ব্যাংক সাধারণত ৬ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করে থাকে।’

মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘চলতি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের ৩০ হাজার ৯১১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ১২ হাজার ৭৭৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণের হার ৪১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।’

সরকারি দলের নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ১১ মাসে (জানুয়ারি-২০২২ হতে নভেম্বর ২০২২) ১৯ হাজার ৫৮৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

সরকারি দলের মোহাম্মদ হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কৃষি ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২৮ হাজার ২৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।’

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ব্যাংক হিসাব জব্দ

পাওনা আদায়ের জন্য এইচ জি এভিয়েশন লিমিটেডের রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ব্যাংক হিসাব সরকার জব্দ করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি জানিয়েছেন ভ্রমণ কর বাবদ রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কাছে সরকারের পাওনা ৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা কিন্তু ব্যাংক হিসাব জব্দ করে এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

সরকার দলীয় সংসদ মোহাম্মদ হাবিব হাসান অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর নিকট ভ্রমণ কর বাবদ কোনো পাওনা অপরিশোধিত আছে কিনা? পাওনা আদায়ে সরকার কি পদক্ষেপ নিয়েছে সেটাও তিনি জানতে চান।

জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের নিকট ভ্রমণ কর বাবদ ৩২ কোটি ৪৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩১ টাকা পাওনা রয়েছে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পাওনা অপরিশোধিত রয়েছে। অপরিশোধিত পাওনা আদায়ের জন্য তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। সেখান থেকে এক কোটি ৩৭ লাখ ১৯ হাজার ৫১২ টাকা আদায় করা হয়েছে।

ournews24.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_imgspot_img

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -spot_imgspot_img