বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeসর্বশেষ সংবাদনিউমোনিয়ায় বিশ্বে প্রতি ১৩ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু

নিউমোনিয়ায় বিশ্বে প্রতি ১৩ সেকেন্ডে একজনের মৃত্যু

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সংক্রামক ঘাতক নিউমোনিয়া। প্রতি ১৩ সেকেন্ডে বিশ্বে নিউমোনিয়ায় একজনের মৃত্যু হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় ২৫ হাজার মানুষ মারা যায়।

বিশ্বব্যাপী নিউমোনিয়া সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালন করা হয়। আজ শনিবার বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস। দিবসটি ঘিরে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, নিউমোনিয়া দিবসে বিএসএমএমইউর রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগ শোভাযাত্রা, সভা-সেমিনারের আয়োজন করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। এটি নিরাময়যোগ্য হলেও প্রতি ১৩ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন শিশু এ রোগে মারা যায়।

জনস্বাস্থ্যবিদরা জানান, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও টিবির জীবাণুর মাধ্যমে নিউমোনিয়া ছড়ায়। সারাবিশ্বে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। সব বয়সী এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বয়স্করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস উপলক্ষে গত ৯ নভেম্বর দুপুরে মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ‘মেডিকেল অক্সিজেন নিরাপত্তা’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। এ মৃত্যুর বেশিরভাগ প্রতিরোধযোগ্য।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, নিউমোনিয়া আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হচ্ছে বায়ুদূষণ। মানুষের শরীরে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ফুসফুসে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস প্রভৃতি ইনফেকশন বা সংক্রমণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকার ঘরগুলোতে ভেন্টিলেশন সুবিধা কম থাকায় হাঁচি-কাশির মাধ্যমে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তারা আরও বলেছেন, দেশে প্রতিবছর পাঁচ বছরের কম বয়সী ৮০ হাজারের মতো শিশু ভাইরাল নিউমোনিয়ায় ও বিভিন্ন ধরনের রেসপিরেটরি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের শতকরা ৩০ ভাগ মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া।

২০১৮ সালে বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসকে সামনে রেখে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভ দ্য চিলড্রেনের

যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০১৬ সালে বিশ্বে ৮ লাখ ৮০ হাজার শিশু মারা যায়। এদের অধিকাংশই দুই বছরের কম বয়সী। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকের শেষ নাগাদ ১ কোটি ১০ লাখের বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশে সবচেয়ে বেশি শিশুর মৃত্যু হবে। বিশেষ করে নাইজেরিয়া ও ভারতে ১৭ লাখ শিশু, পাকিস্তানে ৭ লাখ এবং কঙ্গোতে ৬ লাখ ৩৫ হাজার শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, কমদামি অ্যান্টিবায়োটিকস সেবন বন্ধ ও শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতের মাধ্যমে ৪১ লাখ শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।

নিউমোনিয়া কী? : জনস্বাস্থ্যবিদরা বলেছেন, ফুসফুসে ইনফেকশনের নাম নিউমোনিয়া। এটি সাধারণত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহের কারণে হয়। প্রদাহ যখন জীবাণুঘটিত বা সংক্রমণজনিত হয়ে রোগ তৈরি হয় এটিকে নিউমোনিয়া বলে।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ : প্রচণ্ড জ্বর, কাঁশি ও বুকে ব্যথা হচ্ছে নিউমোনিয়ার প্রধান লক্ষণ। এ ছাড়া জ্বরের সঙ্গে ক্লান্তি অনুভব, মাত্রাতিরিক্ত ঘাম, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট, শরীরে কাঁপুনি, মাথাব্যথা, খাওয়ার প্রতি অনীহা ও বমি বমি ভাব হয়।

নিউমোনিয়া প্রতিরোধে করণীয় : স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে জানান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কিছু নিয়ম মানলে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়। যেমন—নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ করা, ধূমপান বর্জন করা, হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা, পুষ্টিকর খাবার, ফলমূল ও বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা : নিউমোনিয়া শুরুতে শনাক্ত করা গেলে তা নিরাময়যোগ্য বলে জানান জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, শিশু ও বৃদ্ধ ছাড়াও যাদের ডায়েবেটিস, কিডনি, লিভারসহ ক্রনিক ডিজিজ রয়েছে তাদের নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি। নিউমোনিয়ার চিকিৎসা তিন ধাপে করা হয়। বাসায়, হাসপাতালের সাধারণ শয্যায় ও আইসিইউতে। তাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে তিনি কোন স্টেজে আছেন, সেটি নির্ধারণ করে চিকিৎসা দিতে হবে। দেশে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দেওয়া হয়। তবে রোগী ও অভিভাবককে সচেতন হতে হবে।

ournews24.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর