শনিবার, জানুয়ারি ২৮, ২০২৩

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeবিশেষ সংবাদডিসেম্বরে আসল খেলা হবে; ওবায়দুল কাদের

ডিসেম্বরে আসল খেলা হবে; ওবায়দুল কাদের

বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) ভুলে যান। উচ্চ আদালত এর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। দুনিয়ার কোনো দেশে তত্ত্বাবধায়ক নেই। আমাদের সংবিধানেও এটি নেই। নিরপক্ষে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন হবে। সরকার তাদের সহযোগিতা করবে। বিএনপির মতো বেলা ১১টার মধ্যে নির্বাচন শেষ হয়ে যাবে না।

তিনি বলেন, আসল খেলা হবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। জয় নিয়েই বাড়ি ফিরব।

আজ রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, আজ আমি নারায়ণগঞ্জে এসে আনন্দিত যে, এক মঞ্চে দুই গণমানুষের নেতা শামীম ওসমান ও মেয়র আইভী পাশাপাশি বসে আছেন। এরাই নারায়ণগঞ্জের শক্তি।

দীর্ঘ ২৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল। গত বেশ কিছুদিন যাবৎ সারা দেশে বিএনপি নানা ইস্যুতে মাঠে ছিল। এর মধ্যে তারা চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে গণসমাবেশ করেছে। তাই নারায়ণগঞ্জের এ সম্মেলনের দিকে জেলাবাসীর পাশাপাশি দেশবাসীরও নজর ছিল।

সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ‘খেলা হবে’- এই স্লোগান দিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, খেলা হবে ভোট চুরির বিরুদ্ধে, খেলা হবে ভোট জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে, খেলা হবে লুটপাটের বিরুদ্ধে, খেলা হবে ভুয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে, খেলা হবে নারী নির্যাতন, গুম ও খুনের বিরুদ্ধে। বিএনপির বিরুদ্ধে খেলা হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, কয়েক হাজার লোক নিয়ে; কত হবে কোথাও ৩০ হাজার, কোথাও ৩৫ হাজার, কোথাও ৭০ হাজার। আজকে নারায়ণগঞ্জের সম্মেলনে মাঠের ভেতরে যত লোক আছে মাঠের বাইরে তার দ্বিগুণ আছে।

বিএনপিকে ভোটের মাঠে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণ চেহারা দেখে ভোট দেয় না। উন্নয়ন দেখে দেয়। শেখ হাসিনা উন্নয়ন করেছেন। অতীতে কী ছিল এই নারায়ণগঞ্জের চেহারা।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অতীতে সে দেশে রামরাজত্ব কায়েম করেছিল। সে এই দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল।’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকটের জন্য আমাদের দায়ী করবেন না। আপনাদের চিন্তায় প্রধানমন্ত্রীর রাতে ঘুম হয় না।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, কে কী করেন সেই এসিআর শেখ হাসিনার কাছে রয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, কিছু কিছু মিডিয়া ও সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবীরা বিএনপির কয়েকটি সমাবেশ দেখে বেহুশ হয়ে পড়েছেন। এ রকম অনেক বড় সমাবেশ আমরা প্রতিদিন করতে পারি। কিন্তু নির্বাচনেই সবকিছু প্রমাণ হবে।

তিনি বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপির পায়ের নিচে মাটি নেই। বিএনপি আন্দোলন করতে এলে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন, এমনকি ভোটের মাঠেও তাদের পরাজিত করার আশা ব্যক্ত করেন।

ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, বিএনপি দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ করছে। আমরা এ ধরনের সমাবেশ প্রতিদিন করতে পারি। নভেম্বর মাসেই এ ধরনের ১০টি বিশাল সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি।

সম্মেলনে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। আমার বড় ভাই একেএম নাসিম ওসমানের নামে সেতু উদ্বোধনের সময়ে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আমাদের পরিবারকে স্মরণ করেছেন, এরপর আর কিছু চাওয়ার থাকে না। সেদিন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। আমরা আর ‘ছিল’ বলতে চাই না। আমরা প্রমাণ করতে চাই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল, আছে ও থাকবে।

তিনি বলেন, মানুষ আর হাইব্রিডের ধাক্কা খেতে চায় না। তৃণমূলের মূল্যায়ন চায়। কমিটিতে যেন তৃণমূলদের মূল্যায়ন করা হয়। অতীতে এমন অনেককে কমিটিতে রাখা হয়েছিল যাদের আমিই চিনি না। জেলা পরিষদে চন্দন শীলকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ সে তৃণমূলের। তাকে জেলা পরিষদে মনোনয়ন দেওয়ায় সবাই খুশি হয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমাদের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে এ সম্মেলনে এসে দেখলাম শুধু নামে নামে স্লোগান হচ্ছে। ভাইদের শ্লোগান শুনতে চাই না। এখানে নেত্রীর নামে স্লোগান শুনলাম না। নেত্রী আমাদের ভরসা। তার স্লোগান দিন। তিনি না থাকলে আমরা কেউ থাকতে পারব না। সুতরাং সামনে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে নেত্রী ও সরকারের অবদান তুলে ধরতে হবে। নারায়ণগঞ্জে আমরা খুন, গুম, হত্যার রাজনীতি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের রাজনীতি চাই।

আগের কমিটির সভাপতি-সম্পাদক বহাল
এদিকে আগের কমিটির সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলকে রেখেই জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি এই দুই নেতাকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনারা সবাইকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, আনোয়ার হোসেন, রিয়াজুল কবীর কাউসার, পাটমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজি নজিবুল্লাহ হিরু ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি।

ournews24.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_imgspot_img

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -spot_imgspot_img