সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeদেশজুড়েমিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক আহত

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবক আহত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার ভূখণ্ডে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত যুবকের নাম অংঞাথাইন তঞ্চঙ্গা (২৫)। তিনি তুমব্রু হেডম‍্যান পাড়ার অংক‍্যথাইন তঞ্চঙ্গার ছেলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে ঘুমধুমের তুমব্রুর বাসিন্দা অংঞাথাইন তঞ্চঙ্গা মিয়ানমার সীমান্তের শূন‍্যরেখা (জিরোলাইন) ঘেঁষে ৩৫ নং পিলারের কাছাকাছি যান। সে সময় হঠাৎ মিয়ানমার ভূখণ্ডে মাইন বিস্ফোরণের অংশ তাঁর পায়ে এসে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ‍্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল দল অংঞাথাইনকে উদ্ধার করেছে এবং স্থানীয়দের সীমান্ত এলাকায় যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আহত যুবককে প্রথমে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু আঘাত গুরুতর হওয়ায় বিকেলে তাঁকে চট্টগ্রামে চিকিৎসার জন‍্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘুমধুমের স্থানীয় হেডম‍্যান থাইনচাপ্রু সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমার সীমান্ত জিরোলাইনের ৩৫ নং পিলার কাছাকাছি গেলে হঠাৎ ওপারে (মিয়ানমার) মাইন বিস্ফোরণের অংশ এসে পড়লে অংঞাথাইন তংচঞ্চ্যা নামে এক যুবকের পা উড়ে যায়। ওই ঘটনার পাশাপাশি এলাকায় একটি গরুও মারা যায় বলে জানান তিনি।

এ ঘটনার পর সীমান্তে লোকজনদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার লোকজন নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস‍্যরা লোকজনদের সীমান্তের আশপাশে যেতে দিচ্ছে না। এ ঘটনার পর সীমান্তে বিজিবি টহল ও নজরদারি বেড়েছে বলে ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে অংঞাথাইন তঞ্চঙ্গা ও অপর এক যুবক জিরো লাইনের কাঁটাতারের বেড়া এলাকায় যায়। সেখানে হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণে অংঞাথাইন তঞ্চঙ্গার বাম পা উড়ে যায়। তাঁকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। গুরুতর আহত হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর সীমান্তে বিজিবি টহল ও নজরদারি বেড়ে গেছে।

টহলরত অবস্থায় বিজিবির কয়েকজন জওয়ান জানান, কি কারণে ওই দুই যুবক বিজিবির নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জিরো লাইনে গিয়েছিল তা এখনো জানা যায়নি। মাইন কোথা থেকে কীভাবে বিস্ফোরণ হলো তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী অথবা বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান বাহিনী সীমান্তে এসব মাইন পুঁতে রেখেছে।

উল্লেখ্য, গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তে সে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) মধ্যে লড়াইকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি মটারশেল ও গুলি এসে পড়েছে বাংলাদেশের মধ্যে। সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি। গত ২৮ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর দুই দফায় চারটি মর্টারশেল ঘুমধুমের তুমব্রু উত্তর পাড়া ও বাইশফাঁড়ি এলাকায় এসে পড়ে। তবে এসব মর্টারশেল পড়লেও সেগুলো বিস্ফোরণ না হওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর