রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeরাজধানীকষ্ট নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন স্মার্ট ঝালমুড়ি ওয়ালা

কষ্ট নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন স্মার্ট ঝালমুড়ি ওয়ালা

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, জুলহাস কেন পিছিয়ে থাকবে? প্রথমে লুঙ্গি পড়ে ঝাল মুড়ি বিক্রি করতাম। এখন পরিষ্কার ও স্মার্ট কাপড় পড়ে ঝাল মুড়ি বিক্রি করি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের মতো আধুনিক বানাতে চায়। আমার কাছেও যারা ঝালমুড়ি খায়, তারা মনে করে সিঙ্গাপুর বসে খাচ্ছে। এবার একবুক ‘কষ্ট’ নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন স্মার্ট ঝালমুড়ি ওয়ালা।

রাজধানীর শাহবাগের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটপাতে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন জুলহাস। তার মুড়ি রাখার বস্তায় একপাশে রাখেন ফুলের মালা দিয়ে সাজানো বঙ্গবন্ধুর বাঁধাই করা একখানা ছবি আর অন্য পাশে রাখেন তার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদের বাঁধাই করা ফটোকপি। চোখে চশমা, কানে এয়ারফোন, চকচকে শার্ট, গলায় টাই, পায়ে কালো সু, পকেটে মোবাইল ও কলম এবং হাতে সিলভার রংয়ের ঘড়ি পরেন জুলহাস। ৪৫ বছর বয়সের এই ব্যক্তি সর্বদা এমন পরিপাটি সাজে ঝালমুড়ি বিক্রি করে রীতিমত ভাইরাল।

জুলহাস জানান, বাবা যখন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যায় তখন দাদাকে এদেশীয় রাজাকাররা কুকুরের ভ্যাকসিন দিয়ে মেরে ফেলে। পরবর্তীতে দেশ জয়ের পর বাবা যখন ফিরে আসে তখন অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গ নিয়ে ওইসব রাজাকারদের মেরে ফেলা হয়। সেই রাজাকাদের বংশের লোকরাই পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফখরুদ্দিন আহমেদের সময়ে আমার বাবা ও বড় ভাইকে হত্যা করে।

পূর্বে গণমাধ্যমের নিউজ ও বিভিন্ন ইউটিউবারদের ভিডিওতে জুলহাস প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়ানোর সখের কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়ানোর সখ পূরণ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জুলহাস বলেন, না এখনও আমি প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়াতে পরিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাছ থেকে দুটো কথা বলতে পারলে আর তাকে আমার হাতে ঝালমুড়ি বানিয়ে খাওয়াতে পারলে আমি সবথেকে বেশি শান্তি পাবো। আমার বিশ্বাস একদিন আমি এ সখ নিশ্চয়ই পূরণ করতে পারবো। জননেত্রী ভিক্ষুকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন, আমার সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন।

বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কলঙ্কিত। একবুক ‘কষ্ট’ নিয়ে বাংলাদেশও এই পরিস্থিতির বাহিরে নয়। আগে পরিপাটি পোশাকে স্মার্ট এ ঝালমুড়ি বিক্রেতা জুলহাসকে ঘিরেই উৎসুক মানুষের ভিড় লেগে থাকতো। করোনার কারণে এখন সেই ভিড় নেই। এ সময়ে ব্যবসা কেমন যাচ্ছে জানতে চাইলে জুলহাস বলেন, করোনায় ঝালমুড়ি আগের মতো এখন আর মানুষ খায় না। তাই বেচা-বিক্রি কম হওয়ায় রাজধনীতে টিকে থাকা’টা এখন আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তাছাড়া, আমার তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলেটার একটা কঠিন রোগ হয়েছে। যার চিকিৎসা এদেশে নেই। ওকে একটু ভালো খাবার খাওয়াবো তাও প্রতিদিন ব্যবস্থা করতে পারি না। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামি দুএক মাসের মধ্যে রাজধানী ছেড়ে চিরতরে গ্রামে চলে যাবো।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর