সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeরাজধানীখালেদা পুত্র তারেক রহমানের সহযোগী মামুনের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও...

খালেদা পুত্র তারেক রহমানের সহযোগী মামুনের বিরুদ্ধে ২২ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও দুটি ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামির পরিবারের ২২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলেন তারেক রহমানের সহযোগী মশিউর রহমান মামুন। প্রবাসী অধ্যাপকের ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাটও দখলে রেখেছেন একটি ফ্ল্যাটে চলে বিএনপি নেতাদের গোপন বৈঠকে মান্নার সঙ্গে ফোনালাপের প্রেক্ষিতে গ্রেফতারও হয়েছিলেন মামুন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি অধ্যাপক আবুল কাশেস জোয়ার্দারের আপন দুই ভাইপোর ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে লন্ডনে পাচার করেছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অন্যতম সহযোগী বিতর্কিত ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মামুন। এখনও তারেক রহমানের কাছে নিয়মিত টাকা পাঠিয়ে আসছেন যুবদলের সাবেক নেতা মামুন।

অধ্যাপক আবুল কাশেস জোয়ার্দারের দুই ভাইপো অধ্যাপক ড. মো. আবুল মাসরুর ও প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। প্রবাসী অধ্যাপক ও তার সহোদরের ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি ধানমন্ডিতে দুটি ফ্ল্যাটও দখলে রেখেছেন মামুন। এই অর্থ আত্মসাৎ ও দুই ফ্ল্যাট দখলে রাখার বিষয়টি মামুন ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করা অঙ্গীকারনামাপত্রে স্বীকার করে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই সময়সীমার পর ২ বছর চার মাস অতিবাহিত হলেও টাকা দিচ্ছেন না, ফ্ল্যাটও ছাড়ছেন না। উল্টো পাওনা টাকা চাওয়ার কারণে হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন এসব সম্পত্তির প্রকৃত মালিকের চাচাতো ভাই ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি অধ্যাপক আবুল কাশেস জোয়ার্দারের পুত্র বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার। বঙ্গবন্ধু সাহিত্য পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার ও প্রকৌশলী সুলতান আহমেদকে প্রবাসী দুই ভাই তাদের এদেশের সব সম্পত্তির সার্বিক দেখভালের জন্য রেজিস্ট্রি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার। এ সময় প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি অধ্যাপক আবুল কাশেস জোয়ার্দার ২০১৬ সালে মারা যান।

অর্থ আ্ত্নসাত ও বিদেশে তা পাচারের সার্বিক তথ্য-প্রমাণ আছে জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অধ্যাপক ড. মো. আবুল মাসরুর ও তার ভাই প্রকৌশলী মুহাম্মদ ওমর ফারুক পৈত্রিক সূত্রে ধানমন্ডির বাড়িটির (বাড়ি নং ২৯, সড়ক নং ১৪, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, ঢাকা-১২০৯) মালিক। তারা দুই জনই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। এরমধ্যে ড. মো. আবুল মাসরুর বুয়েটের প্রফেসর ছিলেন। প্রবাসী ওই দুই ভাইরের বাংলা মটরে ৬ দশমিক ৭৫ কাঠা জমিতে বিল্ডিং রয়েছে। বিল্ডিংয়ের নাম নূরজাহান টাওয়ার। ডেভেলপারের মাধ্যমে করা এই বিল্ডিংয়ের যে অংশ প্রবাসী দুই ভাই পেয়েছেন তার সবই বিক্রি করে অর্থ আ্ত্নসাত করেছেন মামুন। এই দুটি বিল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মামুনকে। আর এই দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগে শর্ত ভঙ্গ করে প্রবাসী দুই ভাইকে সর্বশান্ত করেছেন মামুন। ড. মো. আবুল মাসরুর যখন বুয়েটের শিক্ষক ছিলেন, তখন মশিউর রহমান মামুনের দুলাভাই ড. সিদ্দিক হোসেনও বুয়েটের শিক্ষক ছিলেন। ড. সিদ্দিক হোসেনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে প্রবাসী দুই ভাই বিল্ডিং দুটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেন মামুনকে। কিন্তু মামুন যে প্রতারক তা বুঝতে পারায় পরবর্তীতে তাকে দেওয়া ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাতিল করা হয় এবং প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদারকে বিল্ডিং দুটি সার্বিক দেখভালের জন্য রেজিস্ট্রি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করা হয়। কিন্তু মামুন ধানমন্ডির দুটি ফ্ল্যাট এখনো জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন।

অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার বলেন, ২০১৮ সালের ৪ জুলাই অঙ্গীকারনামাপত্রে মামুন ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা আ্ত্নসাত করার কথা স্বীকার করেন। অঙ্গীকারনামাপত্র অনুযায়ী, প্রবাসী ওই দুই ভাইরের বাংলা মটরে ৬ দশমিক ৭৫ কাঠা জায়গা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন মামুন। বাংলা মটরের এই জমি ডেভেলপারকে দিয়ে অংশ বুঝে নিয়ে তা বিক্রির মাধ্যমে ২০০৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা মামুন গ্রহণ করেন। কিন্তু এই টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়নি। মামুন নিজের কাছে রেখে দেন। ধানমন্ডির বাড়িটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে ডেভেলপ করা হয়। এক্ষেত্রে জমির মালিক হিসেবে পাওয়া ১০৪, ২০২, ২০৩, ২০৬, ৩০৩ ও ৩০৬ ফ্ল্যাটের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পান মামুন। এরমধ্যে ২০২ মালিকদ্বয় কর্তৃক ব্যবহৃত হয়। আর মালিকদ্বয় ৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাটে মামুনকে থাকার অনুমতি দেয়। বাকিগুলো ভাড়ার টাকা মামুন গ্রহণ করেন। ২০০৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মামুন উল্লিখিত ফ্ল্যাটগুলো থেকে ভাড়া বাবদ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এসব টাকা মালিকদ্বয়ের কাছে দেওয়া হয়নি। যা মালিকদ্বয় ফেরত পাবে বলে অঙ্গীকারনামাপত্রে স্বীকার করেন মামুন। এছাড়া মালিকদ্বয়ের অনুমতি ছাড়াই ৩টি ফ্ল্যাট (৩০৩, ৩০৪ ও ৩০৫) দখলে রাখেন তিনি। যার কোন ভাড়া দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া হচ্ছে না। ২০১৮ সালে ৩০৫ নম্বর ফ্যাটটি খালি করে দেয় মামুন। এখনো পর্যন্ত তার দখলে আছে ৩০৩ ও ৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাট। মালিকদ্বয় বারবার নোটিশ দিলেও ফ্ল্যাট দুটি ছাড়েননি। এরমধ্যে ৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাটে তিনি বসবাস করেন। আর ৩০৩ নম্বর ফ্ল্যাট অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। ৩০৩ ফ্ল্যাটে বিএনপির এক শ্রেণীর নেতাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া রয়েছে। বিএনপি নেতাদের গোপন বৈঠকও সেখানে প্রায় অনুষ্ঠিত হয়।

অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদার আরও বলেন, অঙ্গীকারনামাপত্রে মামুন স্বীকার করেন যে, মালিকদ্বয় মোট ১১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা তার কাছে পাবেন। যার বর্তমান মূল্য
(একাউন্টিং এর সর্বত্র গ্রহণযোগ্য প্রথা অনুসারে) ২২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। মালিকদ্বয়কে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে আসছেন বলেও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করেন মামুন। মালিকদ্বয় মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং ড. মো. আবুল মাসরুর অথবা তাদের নিযুক্ত অনুমোদিত প্রতিনিধিদ্বয় প্রকৌশলী সুলতান আহমেদ এবং অ্যাডভোকেট রিফাৎ নিলয় জোয়ারদারের কাছে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্বোল্লিখিত টাকা প্রদান এবং ৩০৩ ও ৩০৪ নম্বর ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবেন বলে লিখিত অঙ্গীকারনামাপত্রে উল্লেখ করেছিলেন মশিউর রহমান মামুন।

উল্লেখ্য, মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং ড. মো. আবুল মাসরুর এর আপন চাচা অধ্যাপক আবুল কাশেস জোয়ার্দার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার দুই নম্বর আসামি ছিলেন।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর