রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeআইন-বিচারটাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার ৬ বছর পর মেয়রের আত্মসমর্পণ 

টাঙ্গাইলে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার ৬ বছর পর মেয়রের আত্মসমর্পণ 

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা: টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার অন্যতম আসামী টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি দীর্ঘ ৬ বছর পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার সকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়েরা জজ প্রথম আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালতের বিচারক সিকান্দার জুলকার নাইন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩ টার দিকে সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে চলতি বছরের গত ২৩ নভেম্বর সকালে হঠাৎ করে আত্মসমর্পন করতে আদালতে আসেন তিনি। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বিচারক আদালতে না আসায় তিনি আত্মসমর্পন না করে আবার আদালত থেকে চলে যান।

আদালত এবং সংশ্লিষ্ট্য সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল পৌঁনে ১১ টার দিকে সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে আসেন। সময় মুক্তির সাথে তার পিতা ঘাটাইল আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান, বড় ভাই একই আসনের সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা উপস্থিত ছিলেন। পরে সাড়ে ১১ টার দিকে আদালতের বিচারক আদালতের এজলাসে উঠেন। এ সময় সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবীরা তার জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিফুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী ও মামলার বাদী নাহার আহমেদ ন্যায়বিচারের স্বার্থে সহিদুরকে জামিন না দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ করেন। শুনানি শেষে বিচারক সিকান্দার জুলকান নাইন দুপুরের পর আদেশ দেবেন বলে জানান। পরে বিকেলের দিকে আদালতের বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা সহিদুর রহমান খান মুক্তি আদালতে হাজির হন। পরে সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ পাহাড়ায় তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ দিকে সহিদুর রহমান খান মুক্তির আসার খবর পেয়ে আদালত চত্বর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা ফারুক আহমদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিনভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার চা ল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তার পরেই রানা ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি আমানুর রহমান খান রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। গত ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বর্তমানে মামলার সাক্ষীগ্রহন চলছে। এই হত্যা মামলার ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

এদিকে ২২ মাস পলাতক থাকার পর আমানুর রহমান রানা আদালতে আত্মসর্মপন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রায় দুই বছর হাজতে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে তার অপর দুই ভাই এখনো পলাতক রয়েছেন।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর