সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeজাতীয়তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড; মামলার ৮ বছরেও নেই অগ্রগতি

তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ড; মামলার ৮ বছরেও নেই অগ্রগতি

আট বছর আগে ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ শ্রমিক নিহত হওয়ার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী হাজির করতে না পারায় বিচার থমকে আছে। ২০১৫ সালে মামলাটির বিচার শুরুর পর প্রথম ২ বছরের মধ্যে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।

২০১৮ ও ২০২০ সালে কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মাঝে ২০১৯ সালের ৭ মার্চ একজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ১০৪ জন সাক্ষীর এ মামলায় গত ৫ বছরে মাত্র আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত। ফলে এ মামলার নিষ্পত্তি কবে হবে, এ কথা কেউ বলতে পারছেন না।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বিচার চলা এ মামলায় সাক্ষীদের পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ সম্পর্কে ওই আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রেহানা আক্তার বলেন, ‘চার্জশিটে সাক্ষীদের যে ঠিকানা দেওয়া আছে, সেখানে সমন ও ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও পুলিশ তাদের পাচ্ছে না। তাই সাক্ষী হাজির করা যাচ্ছে না।’

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষী না আনতে পারায় আসামিরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরাও চাই দ্রুত বিচার সম্পন্ন হোক।’

মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তারসহ ১৩ জন আসামি। মামলার অপর আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির লোডার শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপার ভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরী ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল। আসামিদের মধ্যে রানা, রাজ্জাক, মঞ্জুর ও দুলাল পলাতক রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১১১ জন পোশাক শ্রমিককর্মী নির্মমভাবে নিহত হন। আহত হন ১০৪ জন শ্রমিক। গার্মেন্টসটিতে এক হাজার ১৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। নিহত ১১১ জনের মধ্যে তৃতীয় তলায় ৬৯ জন, চতুর্থ তলায় ২১ জন, পঞ্চম তলায় ১০ জন, পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যান ১১ জন। লাশ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ৫৩ জনের লাশ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের অশনাক্ত অবস্থায় জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মামলাটি তদন্তের পর ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডির পুলিশের পরিদর্শক একেএম মহসীনুজ্জামন। এরপর ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। চার্জশিটে, ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকায় এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা আগ্নিকাণ্ডকে অগ্নিনির্বাপন মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর