বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeদেশজুড়েটাঙ্গাইলে ব্রিজ নিমার্ণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

টাঙ্গাইলে ব্রিজ নিমার্ণ না হওয়ায় ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা: ঠিকাদারের দুর্নীতি দায়িত্বহীনতা কাজে গাফিলতি ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে বন্ধ রয়েছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা ও চৌহালী উপজেলার সেতুবন্ধন ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত বিনানুই ব্রিজের নির্মাণ কাজ।

ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। এক বছরের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের নির্ধারিত সময় থাকলেও ঠিকাদারের গাফলতির কারণে তিন বছর পার হলেও ব্রিজটি নির্মিত হচ্ছে না। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ব্রিজটি অনেক নিচু করে পিলার করা হয়েছে। ব্রিজটি এভাবে নির্মিত হলে বর্ষাকালে ট্রলার অথবা মালবোঝাই কোন নৌকা এই নদী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সাথে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নসহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নের যোগাযোগ স্থাপন ও জনগনের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিনানুই নামকস্থানে ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর ৫২ মিটার ব্রিজ নির্মানের জন্য দরপত্র আহবান করে। দুই কোটি ২৩ লাখ ৮১ হাজার সাত শ’ প াশ টাকায় মেসার্স র‌্যাব আরবিসি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। ২০১৭ সালর ৫ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ব্রিজটি নির্মানের শেষ সময় ছিল ২০১৮ সালের ৮ ডিসেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ারও প্রায় দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনও ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ হয়নি। বন্ধ রয়েছে ব্রিজের নির্মান কাজ। অথচ ঠিকাদার ওই ব্রিজের নির্মান কাজের প্রায় কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর বাজার ও গয়হাটা বাজার খুব কাছাকাছি হওয়ায় চৌহালীর বাগুটিয়া ও খাসপুকুরিয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন প্রায় প্রতিদিন নাগরপুরে যাতায়াত করে থাকে। ধলেশ্বরী শাখা নদী তাদের জন্য একটি বাঁধা। নদীর অর্ধেক অংশ নাগরপুর উপজেলায় এবং অপর অংশ চৌহালী উপজেলায়। তাই তাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ছিল নাগরপুরসহ ঢাকার সাথে যাতায়াতের জন্য বিনানুইতে দ্রæত একটি ব্রিজ নির্মাণ। এ কারণে তৎকালীণ সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ মন্ডল ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল ওই ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন। কিন্ত ব্রিজটির নির্মাণ কাজ মাঝ পথেই থেমে যায়। শুধু পিলার উঠিয়েই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়। চৌহালী এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারকে ব্রিজ নির্মানের জন্য অন্তত সাতটি তাগাদাপত্র দেওয়া হয়েছে।

নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পান্না লাল মাহমুদ বলেন, এই নদীর ফলে দির্ঘদিন ধরে এলাকার হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। নাগরপুরে আসতে হলে বর্ষাকালে খেয়া পার হয়ে তাদের আসতে হয়। দুভোর্গের যেন শেষ নেই। এই ব্রিজটি নির্মিত হলে বাগুটিয়ার সাথে নাগরপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

বাগুটিয়ার ধানচাল ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ‘ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় আমরা অনেক কষ্টে আছি। মালবাহী কোন গাড়ি এপার আসতে পারে না। ফলে নৌকায় করে মালামাল পার করতে হয়। এতে করে খরচ পরে বেশি। সময়ও নষ্ট হয়। ব্রিজটি নির্মাণে ঠিকাদারের গড়িমসির ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ বিনানুই গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতেছে তাতে ছয় বছরেও শেষ হবে না। ঠিকাদার জহুরুল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও রিসিভ করেননি। অপর ঠিকাদার দুলাল হোসেনের মোবাইলে কল দেওয়া হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান আশকর বলেন, নদীতে প্রায় সারা বছর পানি থাকে। নাগরপুর থেকে বাগুটিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে এই নদী। একপাড়ের লোক অপরাধ করে অন্য পাড়ে গিয়ে পার পাচ্ছে। এ কারণে দুই পাড়েই অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্রিজটির নির্মান হলে দুই উপজেলার জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, বন্যার কারণে কাজটি বন্ধ ছিল। এছাড়াও যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ থাকার কারণে মালামাল পরিবহন করতে না পারায় নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হয়নি। ঠিকাদারকেও কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা পত্র দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকেই পুনরায় ব্রিজের নির্মাণ করা শুরু হবে। দ্রুতই আমি ব্রিজটি সরেজমিন পরিদর্শন করবো।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর