মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeদেশজুড়েসুজানগরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

সুজানগরে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

সুজানগর (পাবনা) সংবাদদাতা: সময়ের আবর্তনে এবং কালের পরিবর্তনে পাবনার সুজানগর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি। এখন আর পৌষ পার্বণ, নবান্ন উৎসব, কিংবা বিশেষ কোন দিনে ঢেঁকিতে পা দিয়ে ধান বানার শব্দ শোনা যায়না। এমনকি শোনা যায়না নববধূদের কণ্ঠে সেই প্রিয় সংগীত “ও ধান বানিরে ঢেঁকিতে পা দিয়া” ঢেঁকি নাচে আমি নাচি হেলিয়া দুলিয়া “ও ধান বানিরে ঢেঁকিতে পা দিয়া। সত্যই গ্রাম বাংলার কৃষাণীদের সেই চিরচেনা ঢেঁকি এখন আর তেমন একটা চোখে পড়েনা। অথচ এক সময় উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি কৃষক পরিবারেই ঢেঁকি ছিল। পরিবারের কৃষাণীরা সে সময় দৈনন্দিন ধান, গম ও জব ভাঙ্গার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন।

পাশাপাশি চিড়া তৈরীর মতে কঠিন কাজও ওই ঢেঁকিতেই করা হতো। বিশেষ করে সবে বরাত, ঈদ, পূজা, নবান্ন উৎসব এবং পৌষ পার্বণসহ বিশেষ বিশেষ দিনে পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতেই ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরী করা হতো। সে সময় গ্রামের বধূদের ধান ভাঙ্গানোর গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে সত্যই চারদিকে হৈ-চৈ পড়ে যেতো। তাছাড়া ওই সময় এলাকার বড় বড় কৃষকরা আশপাশের দরিদ্র নারীদের টাকা বা ধান দিয়ে ঢেঁকিতে চাল ও আটা ভাঙ্গিয়ে নিতো। অনেক দরিদ্র পরিবার আবার ঢেঁকিতে চাল ভাঙ্গিয়ে হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

তখন ঢেঁকিতে ভাঙ্গা পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু চালের বেশ কদর ছিল। কিন্তু বর্তমানে নতুন নতুন ধান-গম ভাঙ্গা মেশিন আবিষ্কারের কারণে ঢেঁকি আজ বিলুপ্ত প্রায়। তাছাড়া সরকারিভাবেও ঢেঁকি সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে গ্রাম-গঞ্জের দু’একটি বাড়িতে এখনও ঢেঁকি দেখা গেলেও অদূর ভবিষ্যতে দেখা যাবেনা বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর