সোমবার, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৩

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeদেশজুড়েবঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দস্যুমুক্ত হওয়ার আশা

বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দস্যুমুক্ত হওয়ার আশা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার ৩৪ জন দুর্ধর্ষ জলদস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এসময় তারা দেশি-বিদেশি ৯০টি অস্ত্র ও ২ হাজার ৫৬ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ জমা দেন।

র‌্যাব জানায়, আত্মসমর্পণকারীরা চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার সুসংগঠিত, ভয়ংকর দুর্ধর্ষ ও সক্রিয় জলদস্যু। তাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সাগরে দস্যুবৃত্তিতে নিয়োজিত অন্যান্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উৎসাহিত হবে। এর মধ্যে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা দস্যুমুক্ত হবে।

র‌্যাব জানায়, সবর্মোট ১১ বাহিনীর ৩৪ জন আত্মসমর্পণ করেছে। একই অনুষ্ঠানে এর আগে আত্মসমর্পণ করা বাইশ্যা বাহিনী, খলিল বাহিনী, রমিজ বাহিনী, বাদশা বাহিনী, জিয়া বাহিনী, কালাবদা বাহিনী ও ফুতুক বাহিনীসহ ১১ জলদস্যু বাহিনীর প্রত্যেককে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাতরা হলেন- বাইশ্যা বাহিনীর প্রধান আবদুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত, আহামদ উল্লাহ, আব্দুল গফুর, খলিল বাহিনীর আব্দুর রহিম, মাহমুদ আলী প্রকাশ ভেট্টু, রমিজ বাহিনীর মো. ইউনুছ, বাদশা বাহিনীর নিজাম উদ্দিন ভাণ্ডারী, মো. ইউনুস, কামাল উদ্দিন, জিয়া বাহিনীর সাহাদাত হোসেন দোয়েল, মো. পারভেজ, কালাবদা বাহিনীর সেলিম বাদশা, মো. সেলিম বাদশা, আব্দুল গফুর, আবু বক্কর সিদ্দিক, মামুন মিয়া, ফুতুক বাহিনীর মো. দিদারুল ইসলাম পুতিক্যা, জসিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, বাদল বাহিনীর ওবায়দুল্লাহ, দিদার বাহিনীর তৌহিদ ইসলাম, কাদের বাহিনীর আব্দুল শুক্কুর, নাছির বাহিনীর প্রধান নাছির, আমির হোসেন ও মো. সাকের।

এছাড়া চকরিয়া থানার জলদস্যু মনজুর আলম, মহেশখালী থানার আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে বাইশ্যা, বেলাল মিয়া, আব্দুল হাকিম বাক্কু, রশিদ মিয়া, কুতুবদিয়া থানার ইসমাইল, সাহাবুদ্দিন টুন্নু, বাঁশখালী থানার ফেরদৌস, রেজাউল করিম ও পেকুয়া থানার ইউনুচ।

র‌্যাব-৭ সিইও লে. কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামশুল হক টুকু এমপি, চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমদ, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক তোফায়েল মোস্তফা সরওয়ার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এএসএম শরীফ হোসাইন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রশিদুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকা জলদস্যু বেষ্টিত ছিল। র‌্যাবের দক্ষতায় জলদস্যুরা অন্ধকার জগত ছেড়ে আলোর পথে আসছে। এটা অত্যন্ত ভালো একটা দিক। যারা দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন আমরা তাদের খোঁজখবর রাখছি। তারা যাতে একটা সুন্দর জীবন যাপন করতে পারে সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা করছে। যারা আজ আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং র‌্যাবের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হবে যা তাদের ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, আত্মসমর্পণকারীরা আজ প্রতিজ্ঞা করে গেলেন তারা আর ভুল পথে যাবেন না। তারা আলোকিত পথে থাকবেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনে সচেষ্ট হবেন।

সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা অপরাধ ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছেন তাদেরকে আমরা সবধরনের সুযোগ করে দেবো।

আত্মসমর্পণ থেকে বিরত থাকা দুর্বৃত্তদের সতর্ক করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা মনে করবেন না যে অপরাধ করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন। কোথাও পালিয়ে থাকতে পারবেন না। বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিছুই জানে না, কিছুই পারে না, এটা ভাবার কোনো কোনো কারণ নেই। আমরা আপনাদেরকে দেখছি সবসময়। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ ও ক্ষীপ্রতা সম্পন্ন। তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছে বলেই আমরা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সক্ষম হয়েছি।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, কিছু ‘কুলাঙ্গার’ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে দেশবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত রয়েছে। এদের কথায় কান দেবেন না। এরা দেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করতে চায়।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বমানের অগ্রগতির পথে ধাবিত হচ্ছে উল্লেখ করে পুলিশ প্রধান বলেন, এই দেশে কর্মসংস্থানের অনেক সুযোগ রয়েছে। মানুষের অনেক ধরনের কাজ করার সুযোগ আছে। তাই কারো অপরাধের জগতে পা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। সৎপথে থেকেই এখন আয় উপার্জন করা সম্ভব। তিনি সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘গণপ্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আত্মসমর্পণকারী ডাকাত আবদুল হাকিম ওরফে বাইশ্যা ডাকাত বলেন, আমরা সকলের কাছে ক্ষমা চাই। আর খারাপ পথে যেতে চাই না। ভালোভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই। আমরা যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারি, আমাদের দিকে খেয়াল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই।

ournews24.com এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ
- Advertisment -spot_imgspot_img

সর্বশেষ খবর

- Advertisment -spot_imgspot_img