সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeদেশজুড়েসবজি চাষে হাসি ফুটেছে উল্লাপাড়ার চাষীদের

সবজি চাষে হাসি ফুটেছে উল্লাপাড়ার চাষীদের

এস এম ময়নুল হোসাইন, সিরাজগঞ্জ: চলনবিল অধ্যাুষিত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এবার আগাম সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কয়েক দফা বন্যার ধকল কাটিয়ে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে উল্লাপাড়া উপজেলার চাষিরা।

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরে সবজির দাম অনেক ভালো পাওয়া যাচ্ছে। তাই উপজেলার মাঠে মাঠে শীতকালীন আগাম সবজি ক্ষেত সবুজে ভরে গেছে। ইতিমধ্যে অনেক মাঠের আগাম সবজি বাজারে এসেছে। আগাম সবজি বিক্রি করে ভাল দামও পাচ্ছেন চাষিরা। তাই এবারের সবজি চাষে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

উল্লাপাড়া উপজেলায় এবার শীতকালীন সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আলু আর ক্ষীরা। পাশাপাশি অন্য সবজিও চাষাবাদ হয়েছে। মোটা দাগে ক্ষীরা আর আলু চাষে এ উপজেলার কৃষক প্রতি বছর বাড়তি আয় করে থাকে। তবে এ বছর কয়েক দফা বন্যায় কৃষকদের সবজি চাষে ছন্দপতন ঘটেছে। প্রতি বছর এসময় বাজারে উল্লাপাড়ার ক্ষীরা,আলু সহ অন্যন্য সবজি পাওয়া গেলেও এবার তা মিলছে না। এতে করে তারা প্রতি বছরের ন্যায় তেমন বাড়তি লাভ করতে পারেনি। তবে এবারে সবাজর দাম অনেকটাই চড়া।

উল্লাপাড়া উপজেলায় এ বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু,২৪০ হেক্টর জমিতে ক্ষীরা চাষ হয়েছে। এর বাইরে মূলা, ফুলকঁপি, শসা, বাধা কপি, বেগুন,টমেটো, গাজর, লাউ, সিম, পটলসহ নানা ধরনের সবজি চাষাবাদ হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই কৃষকরা দিনরাত সবজির মাঠে কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ধীরে ধীরে সবুজে ভরে উঠছে মাঠের পর মাঠ সবজি ক্ষেত। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিরামহীনপরিশ্রম করছে তারা।

উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নে চাকসা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পুরোদমে সবজি চাষাবাদে ব্যস্ত রয়েছে। এ মাঠে আগাম ক্ষীরা গাছগুলো বেশ বড় হয়ে গেছে। অনেক গাছে ফুল ধরেছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ক্ষীরা তুলে বাজারে বিক্রি করা যাবে। তার পাশেই আলু লাগাগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকের পাশাপাশি কৃষানীরাও।

উল্লাপাড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন শীত কালিন ক্ষিরা চাষাবাদের জন্য প্রসিদ্ধ। উপজেলার কয়ড়া,মোহনপুর,বড় পাঙ্গাসী,উধুনিয়া,হাটিকুমরুল,বড়হর,দূর্গানগর ইউনিয়নে মাঠের পর মাঠ জুড়ে ক্ষীরা চাষাবাদ হয়েছে। এসব এলাকার উর্বর জমিতে ক্ষীরার বাম্পার ফলন হয়। দেশজুড়ে সুনাম রয়েছে এই ক্ষীরার। এখান চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ও রপ্তানী করা হয়।

এ উপজেলার কৃষকদের ক্ষীরা ক্রয় বিক্রয়ের জন্য গড়ে উঠেছে দুটি বৃহৎ ক্ষিরার আড়ৎ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা এই আড়ৎ থেকে প্রায় অর্ধ শতাধিক ট্রাক ক্ষীরা কিনে নিয়ে যায় প্রতিদিন। ক্ষেত থেকে তুলে বাড়ির পাশে আড়তে ক্ষীরা বিক্রি করে সহজেই লাভবান হয় কৃষকরা। এতে বাড়তি পরিবহন খরচ হচ্ছে না। ফলে কৃষকরা এ চাষে খুবই আগ্রহী।

এ প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকতা সুর্বনা ইয়াসমিন সুমি জানান,বন্যার কারণে এবার শীতকালীন সবজি সহ কৃষি চাষাবাদে প্রভাব ফেলেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পর আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকতারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার্বিক পরার্মশ দিয়ে যাচ্ছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বাজারে প্রচুর পরিমাণে সবজি উঠবে। আশা করছি কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে। সেই সাথে শীতকালীন সবজিতে ভরে উঠবে হাট বাজার।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর