সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeজাতীয়স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

স্ত্রীর কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

স্ত্রী ড. ফরিদা হকের পাশে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আইনের বাতিঘর ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল আজ শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৮৬ বছর বয়সে মারা যান। দুপুর তিনটায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

দেশের বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক গত ১৫ অক্টোবর থেকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রথম দিকে তাকে কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থা কিছুটা জটিল হওয়ায় তাকে হাই ডিপেনডেন্সি কেয়ার ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়।

গত ২০ অক্টোবর তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে তাকে দ্রুত লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ঐ সময় তার ব্লাড প্রেশার ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যায়। এতে তিনি শকে চলে যান।

আজ মৃত্যুর পর ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা হয় সকাল সাড়ে ১০টায় মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে। এরপর কিছু সময় পল্টনের বাসায় মরদেহ রাখার পর তা নেয়া হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। বাদ জোহর সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেয়া হয় মরহুমের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখানে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয় তাকে।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২রা নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার এট ল সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে আইন পেশায় দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পার করেছেন।

বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে অকুতোভয় আইনি লড়াই করেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার রফিক-উল হক। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী।

১৯৯০ সালের ৭ই এপ্রিল থেকে ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি। পেশাগত জীবনে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তবে, নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা সবসময় তাঁকে পাশে পেয়েছেন। রাজনীতিবিদদের সম্মান সবসময়ই অর্জন করেছেন তিনি।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাঁর জীবনের উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণ ও সমাজসেবায়। আর তার এই উদ্যোগকে বিরল বলে আখ্যায়িত করেছেন আইন অঙ্গনে তার সমসাময়িকরা।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃততে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এছাড়া সিনিয়র আইনজীবীরাও গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা বলেন, আইন ও বিচারাঙ্গনে তার শূন্যতা পূরণ হবার নয়।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর