সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত

spot_img
Homeরাজধানীমিরপুরে মূল সড়কে ময়লার ভাগাড়, চরম জনদূর্ভোগ

মিরপুরে মূল সড়কে ময়লার ভাগাড়, চরম জনদূর্ভোগ

রাজু আহমেদ: রাজধানীর মিরপুরে অন্যতম ব্যস্ততম মূল সড়কজুড়ে সুদীর্ঘ ও উচু স্তুপ আকারে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দূষিত হয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকগণ।

২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ডিএনসিসির ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন দিয়াবাড়িস্থ কাঁচামালের আড়তের সামনের ব্যস্ততম মূল সড়কজুড়ে এই চিত্রটি দেখা গেছে। এযেন সড়ক নয়;বরং ময়লা ফেলার জন্য নির্ধারিত কোনো ময়লার ভাগাড়!

একদিকে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করে পুরো রাজধানীকে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদ্বয়।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম মিরপুরের গোদাখালি খাল পরিস্কারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। খাল পরিস্কার করতে গিয়ে তিনি সেখান থেকে বিপুল পরিমান ময়লা আবর্জনা উদ্ধার করেন। এমনকি সেখান থেকে প্রাপ্ত আবর্জনার আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীর আয়োজনও করেন। নষ্ট জাজিম, সোফা, টেলিভিশনের খোলস, ভাঙ্গা ফ্রিজ, সুটকেস, বালিশ, ডাবের খোসা- কী নেই সেখানে!

অপরদিকে গত কয়েকদিন ধরে একটানা মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। অথচ কোনো নিয়মনীতিরই তোয়াক্কা না করে একটি ব্যস্ততম মূল সড়কজুড়ে বিপুল পরিমান ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিকসেবা। সৃষ্টি করেছে চরম জনদূর্ভোগের। এগুলো কারো নজরেই আসছেনা? অথচ মাত্র ৫০ গজ দূরেই ময়লা ফলেতে সিটি কর্পোরেশনের একটি বড়সড় এসটিএস রয়েছে।

গোটা মিরপুর,গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে মাজার রোড হয়ে মিরপুর বেড়ীবাঁধের সড়ক ব্যবহার করে আশুলিয়া, উত্তরা,গাজীপুরে যাতায়াত এই সড়ক। মিরপুর থকে গাবতলির পর্বত হয়ে আমিনবাজার, সাভারসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যাতায়াতে প্রতিদিন সহস্রাধিক ছোটো-বড় যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তায়। তাছাড়া প্রতিদিন রাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কাঁচামালের আড়তে কাঁচামাল নিয়ে আসে বিপুল সংখ্যক ট্রাক। মিরপুর ও সাভারের দীপ খ্যাত কাউন্দিয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ রাজধানীর সাথে যোগাযোগ রক্ষায় মুল সড়ক হিসেবে ব্যবহার করেন এই রাস্তাটি। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পায়ে হেটে রাস্তাটি ব্যবহার করেন বিপুল সংখ্যক গার্মেন্টসকর্মী ও পথচারীরাও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন কাঁচামালের আড়তগুলো থেকে বিপুল পরিমান ময়লা আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। চরম বিদঘুটে দুর্গন্ধের কারনে এখান দিয়ে নাক আটকে ধরে চলাফেরা করতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়মিত এই ময়লা পরিস্কার করার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে এই ময়লা পরিস্কারে তারা কোনো ভুমিকাই রাখছেনা। ফলে এখানে ময়লা আবর্জনা রাস্তার অর্ধেকজুড়ে বড়সড় ময়লার স্তুপে পরিনত হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ। দিনের আলোতে যেমন তেমন, বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার পরিবহনগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনার কবলে পড়ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথাই দেখা যাচ্ছে না বিষয়টি নিয়ে। এঅবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি খুবই জরুরী হয়ে উঠেছে।

এবিষয়ে ডিএনসিসির স্থানীয় ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিব সরোয়ার মাসুমের মুঠোফোনে ফোন করে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে চেস্টা করে বলেন,আসলে ওই ময়লাগুলো পরিস্কার করার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নয়। পার্শ্ববর্তী ০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও কাঁচামালের আড়তের সাথে যারা ময়লা ফেলতে আর্থিক বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ -তারাই এময়লা পরিস্কার করবে।

‘স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে এদায়িত্ব তো আপনাকেই নেয়া উচিত’ এমন প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর মাসুম আরো বলেন,আপনারা এনিয়ে নিউজ প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। পরে তার সাথে ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি ঢাকার বাইরে আছি। আমি তো সংশ্লিষ্টদেরকে বলে দিয়েছি ময়লা আবর্জনাগুলো সড়িয়ে ফেলতে। কিন্ত এরা একজন আরেজনকে দোষারোপ করে ঠেলাঠেলি করে। ফলে মনে হচ্ছে, আমি ঢাকাতে না আসা পর্যন্ত এটা পরিস্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির অঞ্চল -২ এর এক কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর এবিষয়ে কোনো দায়ভার নিতে না চাইলেই সব ফুড়িয়ে যাবেনা। এদায়ভার অবশ্যই তাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে তিনি সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা অবশ্যই নিতে পারেন। তবে বিষয়টি তদারকিতে দায়ভার পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারেন না।

আওয়ারনিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের পছন্দ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ খবর