সুগার-কোলেস্টেরল থাকলেই বাদ

117

স্বাস্থ্য সংবাদঃ

আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস এ সবের হাত ধরে মাঝ বয়সেই নানা ক্রনিক অসুখের শিকার হতে হয় অনেককেই। সুগার, কোলেস্টেরলের ভয়ে অনেকেই মাটির নীচের সব্জিতে রাশ টানেন একটা বয়সের পর থেকেই। শীতের নানা মরসুমি সব্জির নানা উপকার জানা সত্ত্বেও এ সবকে পাত থেকে বাদ দিচ্ছেন অনেকেই।

বিট, গাজর, রাঙা আলু, শালগম ইত্যাদিতে খনিজ, ফাইবার, ভিটামিন ইত্যাদি বেশি মাত্রায় আছে। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ এই সব সব্জির অনেক গুণাগুণও রয়েছে। অহেতুক ভয়ে বা না জেনেই সে সব খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন না তো?

আমাদের স্বভাব, অসুখ ধরা পড়লেই চার পাশের মানুষের কথায় বা নিজে নিজে বানিয়ে নেওয়া অবৈজ্ঞানিক ডায়েটের কোপে বাদ দিয়ে ফেলছি অনেক সব্জি। আদৌ সে সব বাদ দেওয়ার কোনও যুক্তি আছে কি? কী বলছেন চিকিৎসকরা?

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা একটি বয়সে এসেই মাটির নীচের সব্জি তার খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিয়েদেন! তার মানে একটাই বয়সের পর তা ডায়েট থেকে বাদ দিতে হবে, এমনটা মনে করেন না এন্ডেক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ডায়াবিটিক হলেই আলু, গাজর, কচু, বিট বাদ দিয়ে দেন অনেকেই।

তবে আমাদের  আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র কখনওই সে সবে অনুমোদন দেয় না। বরং শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার দাবি মেটাতে এসব সব্জিতে ভরসা করতে হয়। তাই আলু-গাজর এ সব খাওয়া যায় ডায়াবিটিসেও, কিন্তু তা অবশ্যই ডায়েটেশিয়ান বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে।

আর এক ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞ সমীর দাশগুপ্তও সুগার, কোলেস্টেরলের চাপে মাটির নীচের সব্জিতে না বলার পক্ষপাতী নন। ‘‘শালগম, মুলো, পিঁয়াজ, রসুন আদায় কিন্তু শর্করার পরিমাণ কম অথচ এরা প্রত্যেকেই মাটির তলার সব্জি। কাজেই মাটির তলার সব্জি মানেই যে তা বিপজ্জনক তা নয়।’’ তবে যাঁদের সুগারের মাত্রা বেশি, তাঁরা কি এ সব সব্জি একেবারে বাদ দেবেন?

চিকিৎসকদের মতে, ‘‘সব্জি সেদ্ধ করে সেই জল ফেলে দিলে তার মধ্যেই অতিরিক্ত শর্করার বেশ কিছুটা বেরিয়ে যায়। সেই সব্জি খেলে ভয় আর থাকে না। মাটির তলার বেশ কিছু সব্জি অ্যান্টিইনফ্লেমটরি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হওয়ায় তা উল্টে শর্করা প্রতিরোধ করতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে ও সিদ্ধ করে এ সব সব্জি খেলে ক্রনিক অসুখের ভয় তেমন থাকে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here