সিঙ্গারা স্বদেশি না বিদেশি? জানেন কোথায়  এর জন্ম ?

135

ভোজন রসিকঃ বাঙালি-অবাঙালি সব বয়সের মানুষের প্রিয় খাবারের মধ্যে  সিঙ্গারা ভালবাসেন এ দেশের হাজার হাজার খাদ্য রসিক মানুষ। তবে জানেন তো, এই সিঙ্গারা আদপে কোনও বাঙালি বাংলাদেশের কিংবা ভারতীয় ‘খানা’ নয়!

একদল ইতিহাসবিদের মতে, ফার্সি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকেই এই সিঙ্গারা শব্দের উৎপত্তি। তাঁদের দাবি, গজনবী সাম্রাজ্যে সম্রাটের দরবারে এক ধরনের নোনতা মুচমুচে খাবার পরিবেশন করা হতো। যার মধ্যে কিমা, শুকনো বাদাম জাতীয় অনেক কিছু দেওয়া হতো। এটাই নাকি সিঙ্গারার আদি রূপ।

বিখ্যাত ইরানি ইতিহাসবিদ আবুল ফজল বায়হাকিরেএর দাবি, ইরান থেকেই নাকি সিঙ্গারা এ দেশে এসেছে। অর্থাৎ তাঁর মতে সিঙ্গারার জন্মস্থান ইরান। আবুল ফজল বায়হাকির ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ বইয়েও ‘সাম্বোসা’র উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল ফজলের দাবি অনুযায়ী, ইরানের এই ‘সাম্বোসা’ই সিঙ্গারার আদি রূপ। আমির খসরুর রচনাতেও এর উল্লেখ রয়েছে।

তবে সিঙ্গারার জন্মভিটে নিয়ে মতান্তর এবং বিতর্ক থাকলেও ভারতের পরেই বাংলাদেশে  আসার পর যে এর স্বাদ আর উপকরণে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই!

যেমনঃ ষোড়শ শতকে পর্তুগিজরা ভারতের মাটিতে পা রাখার পর এ দেশের মানুষের পরিচয় হয় ‘আলু’ নামের চমৎকার এক সবজির সঙ্গে। পরবর্তিকালে এই সবজিকে এ দেশের মানুষ যে কতটা আপন করে নিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য! ষোড়শ শতকের পর থেকে সিঙ্গারার মূল উপকরণ হয়ে ওঠে এই আলু। এ দেশে মাংসের সিঙ্গারা ,কলিজা সিঙ্গারা, ফুলকপির সিঙ্গারা, পনিরের সিঙ্গারা, ক্ষিরের সিঙ্গারা ইত্যাদি নারিকেলের সিঙ্গারা,পিয়াজের সিঙ্গারা নানা রকমের বা নানা স্বাদের সিঙ্গারার চলতে থাকলেও কিন্ত আলুর পুর দেওয়া সিঙ্গারাই সবচেয়ে জনপ্রিয়। তাই তো আলু ছাড়া সিঙ্গারার কথা আমরা ভাবতেই পারি না!

ঘরেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু সিঙ্গাড়াঃ

আপনিও ইচ্ছে করলেই ঘরে বসেই তৈরি করতে পারেন মজাদার সিঙ্গারা । আপনি শহরে বাহির হলেই দেখবেন প্রতিদিন শহরের অলিগলিতে অসংখ্য দোকানে দেখা মেলে এই সিঙ্গারার। কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনা সিঙ্গাড়া যে অতোটা স্বাস্থ্যকর নয়, তা আমাদের সবারই জানা। তবু সিঙ্গারা বলে কথা! মন তো খেতে চাইতেই পারে। আর সেজন্য ঘরেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু সিঙ্গাড়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here