সাভারে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা নেই সিএনজি স্টেশনে

1702

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাভারে বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে গ্যাসের অবৈধ সরবরাহ । গ্যাস ও বিস্ফোরণ আইনে বিধি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা মানছে না সিএনজি স্টেশন মালিকরা ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় , সাভার উপজেলায় ৩৮ টি সিএনজি স্টেশন পাম্প রয়েছে । তবে এর মধ্যে সাভারের পৌর এলাকার উলাইল বাসস্ট্রান্ডে অবস্থিত সাভার সি.এস.জি রি-ফুরেলিং স্টেশনসহ কয়েকটি সিএনজি পাম্পে অবাধে কার্ভাড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডারে মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে । ব্যবহৃত প্রত্যেকটি কার্ভার ভ্যানে এক’শ থেকে দেড়’শ টি গ্যাসের সিলিন্ডার রয়েছে। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যে কোনও মূহুর্তেই বড় কোনও দূর্ঘটনার রয়েছে আশংঙ্কা ।
তবে এবিষয়ে সাভার সি.এস.জি রি-ফুরেলিং স্টেশন ম্যানেজার জহিরুল জানান, আমাদের মালিকের সাথে আল-মুসলিম গ্রুপের মালিকের গ্যাস দেওয়া-নেওয়ার কথা হয়েছে , ”তারাই ম্যানেজ করে আমরা গ্যাস দেই” বলে জানান তিনি ।
তবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট শেখ রাসেল হাসাল ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে । তৎকালীন সময় সাভারের উলাইল স্ট্রান্ডে অবস্থিত সি.এস.জি রি-ফুরেলিং স্টেশনে একটি কার্ভাড ভ্যানে অবৈধ ভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিলো । সে সময় নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে ওই কার্ভাড ভ্যানের ড্রাইভাররের মাধ্যমে জানতে পারে পাশের পোশাক কারখানার আল-মুসলিমের গাড়ি । পরে পোশাক কারখানায় পরিদর্শন করে আরো কয়েক টি অবৈধ গ্যাসের সিলিন্ডার বহনকারী কার্ভাড ভ্যান দেখতে পায় । পরে ওই পোশাক কারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহ করায় বাংলাদেশ গ্যাস আইনে ২০১০ অনুসারে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় । পরে পোশাক কারখানায় ও সিএনজি স্টেশনে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে গ্যাসের ব্যবহারের জন্য সর্তক ও নিষেধ করা হয় ।
তবে সাভার সি.এস.জি রি-ফুরেলিং স্টেশন নিষেধ অমান্য করে পূনরায় কার্ভাড ভ্যানে গ্যাস বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে । সরেজমিনে প্রদর্শন করে ঢাকা মেট্রো-উ ১১-৩৩০৪ ও ঢাকা মেট্রো-উ ১২-০৭১৩ দু’টি কার্ভাড ভ্যানে অবৈধ ভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে দেখা যায় । যা আল-মুসলিম নামে ওই পোশাক কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ গ্যাস সরবরাহকৃত কার্ভাড ভ্যান।
তবে এবিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ রাসেল হাসান জানান, গত বছর ওই সিএনজি স্টেশনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে গ্যাস সরবরাহের জন্য সর্তক ও নিষেধ করা হয়েছিলো । তবে তা অমান্য করে অবৈধভাবে গ্যাস কার্ভাড ভ্যানে সরবরাহ করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনের এই অবৈধ কার্যক্রম প্রসঙ্গে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর মহাব্যবস্থাপক (সিএনজি ডিবিশন)

মহাম্মদ আলী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের সারা বাংলাদেশে একটি মাত্র জোন রয়েছে । তবে যে জোনে থেকে সিএনজি স্টেশন গ্যাস সরবরাহ করে সেই জোনের তিতাস কতৃপক্ষ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে ’। সিএনজি স্টেশনগুলো ৯ থেকে ৫ পযর্ন্ত বন্ধের নির্দেশ রয়েছে তা নিয়ম-নীতি মেনে চলছে কি না তাও তিতাস জোনাল অফিসের দায়িত্বে । সিএনজি স্টেশনে এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের জন্য সর্তক করা হবে বলে জানান তিনি । এসময় তিনি আরো বলেন , তিতাসকে আমরা চিঠি দিয়ে দিবো যাতে সিএনজি স্টেশন এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকে ।

সাভার আঞ্চল তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপ-মহাব্যবস্থাপক মোখলেসুর রহমান কাছে ঝঁকিপূর্ণ ও অবৈধ গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি জানতে চাইলে

তিনি জানান, মিটারে কোনও গ্যাস যায় বা মিটারের কারচুপি হয় কি না এটা আমাদের দায়িত্বে মধ্যে পড়ে । কারণ আমি কোথায় গ্যাস দিচ্ছি আর সে গ্যাস দিয়ে কে রান্না করে কোথায় বসে ভাত খাবে এটা আমার দেখার বিষয় নয় । এ দায়িত্বটা আমাদের না এটা বিস্ফোরকের বিষয় ।

অন্যদিকে সিএনজি স্টেশন থেকে অবৈধ উপায়ে সিলিন্ডারে করে এই গ্যাস সরবরাহ ও পরিবহণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের বিষ্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিষ্ফোরক পরিদর্শক মো. সামছুল আলম জানান, ‘সিএনজি স্টেশনে গ্যাস অবৈধ ব্যবহার বন্ধে বিষ্ফোরক আইনে স্থানীয় জেলা, উপজেলা ও আইশৃঙ্খলা বাহির পর্যবেক্ষণের স্পষ্টভাবে ক্ষমতা দেওয়া আছে’ । এসময় তিনি কার্ভাড ভ্যানে গ্যাস সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, কার্ভাড ভ্যানে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরণে ১ শ গজের মধ্যে যে কোনও প্রাণী থাকলে তার মৃত্যু হতে পারে বলে জানান তিনি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here