সম্মেলন শেষ করা ৪ সংগঠন: যুবলীগ ছাড়া অন্যদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত

9

সম্মেলন শেষ করা ৪ সংগঠন: যুবলীগ ছাড়া অন্যদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত
সম্মেলন শেষ করা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইতিমধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুমোদনের জন্য তা জমাও দিয়েছে। আজ-কালের মধ্যে কমিটি জমা দেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগও। তবে এখনও কমিটির তালিকা তৈরি করতে পারেনি যুবলীগ। ঢাকা সিটি নির্বাচনের পর খড়সা কমিটি তৈরি করবে সংগঠনটি।

সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, দায়িত্ব পাওয়ার পরই তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। তবে ডিসেম্বর মাসের কর্মসূচি এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের ব্যস্ততার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির যোগ্য ও ত্যাগীদের জায়গা করে দিতে সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করেছেন তারা।

জানতে চাইলে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল রোববার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, ‘কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার লক্ষ্যে আমরা জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) চেয়েছিলাম। ১২শ’র মতো সিভি জমা পড়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে কমিটির খসড়া তৈরি করা হবে। এটা করতে একটু সময় লাগবে। এখন তো সিটি নির্বাচনের ব্যস্ততা। নির্বাচনের পরই আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেব।’

কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ এদিন বলেন, ‘আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া প্রস্তুত হয়ে গেছে। কাল-পরশুর (আজ-কাল) মধ্যে তা আমাদের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিতর্কিত কাউকে নেতা বানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শুদ্ধি অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাই না। তাই সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি করার চেষ্টা করছি।’

এদিকে কৃষক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুমোদনের জন্য জমা দেয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি সমীর চন্দ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, ‘আমরা কৃষক ও কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়ার চেষ্টা করেছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন পাওয়ার পর কমিটি ঘোষণা করা হবে।’

অপরদিকে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পদক কেএম আজম খসরু জানিয়েছেন, সম্মেলনের কিছুদিন পরই পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তৈরি করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়া হয়েছে। ত্যাগী ও যোগ্যদের কমিটিতে রাখার প্রতিই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বিদায়ী বছরের ৬, ৯, ১৬ ও ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের জাতীয় সম্মেলন। আওয়ামী লীগের এই তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ পদে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। নির্বাচিতরা নিজ নিজ সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন- এটাই রয়েছে গঠনতন্ত্রে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে জানানো হয়েছিল, সম্মেলনের পরের সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু সম্মেলনের পর পেরিয়ে গেছে দেড় থেকে দুই মাস। এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি কেউই। এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না পদপ্রত্যাশীদের। সম্মেলনের পর থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বাসা, অফিস কিংবা আড্ডাস্থলে ভিড় করছেন তারা।

সহসম্পাদক পদ থাকছে না যুবলীগেও : আওয়ামী লীগের মতো যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক পদ বাদ দেয়া হচ্ছে। এর আগে ২১তম জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদ বাদ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাদের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের গঠনতন্ত্রেও ১৫১ জন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে ২৫ জন সহসম্পাদকের কথা উল্লেখ রয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি অনুমোদন দিলেই তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেই এটা কার্যকর হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলে মৎস্যজীবী লীগকে সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সহযোগী সংগঠনের মর্যাদা পাওয়ার আগেই ২৯ নভেম্বর তাদের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংগঠনটিও এখন ব্যস্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজে।

১১ ও ১২ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি এই সংগঠন দুটির। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক তারেক সাঈদ যুগান্তরকে বলেন, কোনো মাদক ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ ও অনুপ্রবেশকারীদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান দেয়া হবে না। আমরা চাই ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কমিটিতে স্থান দিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here