শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই ড্র দেখতে হল বার্সেলোনাকে

71
মেসিদের খালি হাতে ফেরাল লিঁও

ক্রীড়া সংবাদ ঃ সব প্রতিযোগিতা মিলে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই ড্র দেখতে হল বার্সেলোনাকে। যে একটি ম্যাচে জয় পেয়েছে তাকেও বলা চলে ভাগ্য গুণে। গতরাতে লিঁওর বিপক্ষে বার্সার আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি, লুসই সুয়ারেজ, উসমান ডেম্বেলে ও ফিলিপ কুতিনহোরা ২৫টি শট নিয়েও দলকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিতে পারেননি।

গতরাতে লিঁওর ঘরের মাঠ পার্ক অলিম্পিক লিওনেজে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচটি খেলতে যায় বার্সেলোনা। ম্যাচের আগে অবশ্য লিঁওর সভাপতি জ্যাঁ-মিশেল অলাস বলেছিলেন, ‘মেসিকে কখনই আমাদের বিপক্ষে অপ্রতিরোধ্য বলে মনে হয়নি আমার কাছে। সে তুলনায় আমার যত দূর মনে পড়ে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বেশ ভালো খেলেছে আমাদের বিপক্ষে। আমি চাইব সামনের দুই ম্যাচেও মেসি যেন আমাদের বিপক্ষে আগের মতো নিষ্প্রভই থাকে।’

ম্যাচ শেষে লিঁওর সভাপতি জ্যাঁ-মিশেল অলাসের কথাই সত্যি হলো। এ ম্যাচে মেসি ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। তবে মেসিদের গোল না পাওয়ার জন্য অবশ্যই লিঁওর গোলরক্ষককে কৃতিত্ব দিতেই হবে। কারণ অন্তত নিশ্চিত তিনটি গোল ঠেকিয়েছেন লিঁও গোলরক্ষক। তাই ঘরের মাঠে লিঁওকে হারাতে নতুন কোনো ফন্দি আঁটতে হবে বার্সা কোচ ভালভার্দেকে।

অথচ পরিসংখ্যানে দুই দলের পার্থক্য অনেক। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত ছয়বারের দেখায় একবারও বার্সাকে হারাতে পারেনি লিঁও, যার চারটিতেই জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কাতালানরা। সর্বশেষ দুই দলের দেখা হয়েছিল ১০ বছর আগে। ২০০৮/০৯ মৌসুমের শেষ ষোলোয় দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ গোলে জিতে সেমিতে পা রেখেছিল বার্সা। তবে এবারের আসরে একদিক থেকে দুই দলই সমান। এখন পর্যন্ত চলতি আসরে কোনো মাচ হারেনি দুই দলই।

২০১১/১২ মৌসুমে শেষবার  নকআউট পর্বে পা রেখেছিল ফরাসি ক্লাবটি। গত ছয়বারের পাঁচবারই তাদের লড়াই শেষ ষোলোয় এসে থেমে গেছে।  অন্যদিকে বার্সা টানা ১৫বার নকআউট পর্বে পা রেখেছে। তাদের চেয়ে এগিয়ে একমাত্র রিয়াল মাদ্রিদ (২২)। সর্বশেষ ২০০৬/০৭ মৌসুমে তারা লিভারপুলের কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল।

ম্যাচের প্রথমেই ষষ্ঠ বার্সা গোলরক্ষকের ভুলে গোল খেতে বসেছিল। লিঁও’র ফরাসি মিডফিল্ডার হওসেম অওয়ারের নেওয়া নিচু শট ঠেকাতে বেশ বেগ পেতে হয় বার্সা গোলরক্ষককে। কর্নারের বিনিময়ে গোল ঠেকান তিনি। কিন্তু তাতে অবশ্য কোনো বিপদ ঘটেনি। অষ্টম মিনিটে ফের দারুণ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল অলিম্পিক লিঁও। মুসা ডেম্বেলের লম্বা করে বাড়ানো বল পায়ে জড়িয়ে তেরিয়ারের নেওয়া রকেট গতির শট ঠেকাতে রীতিমত নিজের সেরাটা দেখাতে হয় টের স্টেগানকে। ফিরতি শটও ঠেকাতে বেশ বেগ পেতে হয় তাকে।

১৭তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ শানানো আলবার কাট-ব্যাক থেকে বল পেয়েও ফাঁকায় থাকা মেসি প্রথম সুযোগেই গোল করতে পারতেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন তারকার সেই প্রচেষ্টা নষ্ট হয়। ১৯তম মিনিটে অল্পের জন্য সুযোগ মিস করেন উসমান ডেম্বেলে। লিঁও’র রক্ষণকে ফাঁকি দিয়ে গোলরক্ষক লোপেসকে একা পেয়েও পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন এই উইঙ্গার।

স্বাগতিক লিঁও বার্সার রক্ষণকে এই রাতে বারংবার পরীক্ষায় ফেলে দেয়। প্রথমার্ধের একদম শেষদিকে মুসা ডেম্বেলের পাস থেকে পোস্টের একদম কাছ থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তেরিয়ের।

দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনা অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। কমে যায় তাদের আক্রমণের ধারও। দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিটের মধ্যে দুইবার গোলের সুযোগ তৈরি করে লিওঁ। শেষ ২০ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ ও বুসকেটসের দূরপাল্লার শট রুখে দেন লিওঁর গোলরক্ষক।

আগামী ১৩ মার্চে ফিরতি লেগে নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যূয়ে হওয়াতে এবারও শেষ আটের আশা ভালোভাবে টিকে আছে ভালভার্দের দলের।

শেষ ষোলোর প্রথম লেগে একই সময়ে শুরু হওয়া আরেক ম্যাচে লিভারপুলের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরেছে বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here