লিভারপুলের বার্সা জয়: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে এটাই কি সেরা ঘুরে দাঁড়ানো?

27

খেলার খবর: “ইতিহাস তৈরি হলো অ্যানফিল্ডে, বার্সেলোনা হারলো, লিভারপুল জিতলো, মেসি মার্সিসাইডে বিধ্বস্ত, সালাহ নেই, ফিরমিনো নেই, সমস্যা নেই লিভারপুলের, এটাই সেরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে ফিরে আসা যে কোনো দলের জন্য,” মার্সিসাইডের অ্যানফিল্ডে লিভাপুলের দুর্দান্ত এক জয়ের পর এমনটাই বলছিলেন ধারাভাষ্যকাররা।

প্রথম লেগে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে বার্সেলোনা লিভাপুলকে ৩-০ গোলে হারায়।

সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অ্যানফিল্ডে ৩-০ গোলের ব্যবধান মিটিয়ে আরো একটি বাড়তি গোল দিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে লিভারপুল।

এনিয়ে পরপর দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলছে লিভারপুল।ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরার বিশ্বাস করতেই পারছিলেন না তিনি কি দেখছেন।

এক মাসে মেসি সুয়ারেজ, অপরপাশে নেই মো সালাহ বা রবার্তো ফিরমিনো, ডিভোক ওরিগি ও জর্জিনিও উইনালডামের জোড়া গোলেই লিভারপুল ফাইনালের টিকেট হাতে পেলো।

অ্যালান শিয়েরার বলেন, “এটা তারা ঠিক কীভাবে করলো আমি জানিনা, মনে হলো যেন বিশ্বাস, ক্ষুধা, চেষ্টা, মানসিকতার একটি মিশ্রণ যার সাথে যোগ হয়েছে একদল দর্শক যারা প্রথম মুহূর্ত থেকেই এটা চাচ্ছিলেন খুব করে।” ম্যাচের শুরুর দিকে লিওনেল মেসি বেশ কয়েকটি সুযোগ পান এবং বল বানানোর চেষ্টা করেন।

লিভারপুল রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক দৃঢ় দেয়াল তৈরি করে রাখে শুরু থেকেই।অল-রেড অধিনায়ক হেন্ডারসনের শটে টের স্টেগের হাত থেকে ফিরে আসা বলে ৭ মিনিটে ডিভোক ওরিগি গোল দেন ঠিকই কিন্তু তখনও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ লিভারপুলের হয়ে ওঠেনি। ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে মার্সিসাইডের দলটি এবং টানা প্রেসিং ফুটবল খেলা শুরু করে।

বিশেষত উইনালডাম বদলি হিসেবে নামার পর মাঝমাঠ ও উপরিভাগে গতি বৃদ্ধি পায়। ৫৪ থেকে ৫৬ এই তিন মিনিটের মাথায় দুটো গোল করেন এই ডাচ ফুটবলার।

৭৮ মিনিটে আলেকজান্ডার-আর্নোল্ডের বুদ্ধিদীপ্ত কর্ণার থেকে ডিভোক ওরিগির গোলে দুই লেগ মিলিয়ে লিড নেয় লিভারপুল।এমন ম্যাচ এর আগে দেখেছে ফুটবল বিশ্ব? ২০১৭-১৮ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এই বার্সেলোনা এএস রোমার বিপক্ষে ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করে।

কিন্তু ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমা দ্বিতীয় লেগে ৩টি গোল দিয়ে জয় তুলে আনে, সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়।

২০০৪-০৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এসি মিলান লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়।কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে লিভারপুল, অবিশ্বাস্যভাবে ৩টি গোল ফেরত দিয়ে খেলায় ফেরে দলটি।

এরপর পেনাল্টি শুটআউটে ৩-২ ব্যবধানে জেতে লিভারপুল। ২০১১-১২ মৌসুমে শেষ ষোলোর লড়াইয়ের প্রথম লেগে ইতালিয়ান ক্লাব ন্যাপোলির বিপক্ষে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে চেলসি।দ্বিতীয় লেগে এই ব্যবধান ঘুচিয়ে ৪-১ গোলের জয় পায় ইংলিশ ক্লাবটি, সব মিলিয়ে ৫-৪ গোলে জেতে চেলসি।

এই মৌসুমেই বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে প্রথম ও একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতে চেলসি। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে চেলসি বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারায়, দ্বিতীয় লেগে ৫-১ গোলের জয় পায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয় লেগের নায়ক ছিলেন রিভালদো ও প্যাট্রিক ক্লুইভার্ট।২০১৬-১৭ মৌসুমে শেষ ষোলোতে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই প্রথম লেগে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় পায়। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে নেইমার ও সার্জিও রবার্তোর পারফরম্যান্সে ৬-১ গোলের অবিশ্বাস্য এক জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বার্সেলোনা।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here