রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠাতে চায় না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

13

রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাক, বাংলাদেশ এমনটিই চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক নয়। বাংলাদেশ মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় না। তারা যেন নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

একে আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হলো- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমরা এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই।

‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক মধুর। ভারত, নেপাল, ভুটান– এমনকি মিয়ানামারের সঙ্গেও। আমরা ঝগড়া-বিবাদে যেতে চাই না। সে জন্যই মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

আমরা তাদের এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিলাম জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়, যার জন্য দুই দফা তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিও করেনি।

একে মোমেন বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে বলেছি– তোমাদের জনগণ তোমাদের বিশ্বাস করছে না। তোমরা রোহিঙ্গা নেতাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখাও।

‘তা হলে তাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু এর কোনো জবাব আসেনি।’

‘ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন অপু, কেএম আসাদ, সুমন পাল ও সালাউদ্দিন আহমেদের তোলা শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here