রোজায় দর্জিবাড়ীতে ঘুম নেই দর্জিদের চোখে

70

খন্দকার শাহীন আফরোজ: সবার অপেক্ষা এখন ঈদউল ফিতরের জন্য। প্রতীক্ষিত এই ঈদ মানেই চাই নতুন জামা। বিশেষ করে তরুন-তরুণী,কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঈদের উন্মাদনা একটু বেশিই থাকে। ঈদের জামা বলে কথা। তাই পোশাকটি হওয়া চাই ব্যতিক্রম ডিজাইনের। স্পেশাল। একটু আলাদা। তাছাড়া শরীরের সঙ্গে মানিয়ে যারা ফিটিং পোশাক পরেন তারা ছোটাছুটি শুরু করেছেন দর্জিবাড়িতে জামা কাপড় ডেলিভারি নেওয়ার জন্য।

এদিকে রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই যাওয়া আসার পরে আরো ভীড় এখন দর্জিবাড়ীতে!

সব মিলিয়ে এবারের ঈদের দর্জিবাড়ির ঈদ সর্ম্পকে জানতে চাইলে দর্জিরা জানান, আসলেই আমাদের শেষ মুহূর্তে ঘুম নেই চোখে। রাজধানীর ধানমন্ডি রাফা প্লাজা, সোবহানবাগ মোহাম্মদীয়া মার্কেট, ধানমন্ডি ৩০ মোহম্মদপুর,শেখেরটেক, শুক্রাবাদ এলাকা ঘুরে দর্জিবাড়ীর দর্জিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যতই ঈদ সামনে আসছে চোখের ঘুম তাদের উধাও হয়েগেছে!

প্রতিবেদককে দর্জিরা জানান, রোজার আগে  থেকে অর্ডার রাখলেও কিছু অর্ডার সম্পর্কের কারণে জোরপূর্বক নিতে হয়েছে ১৫ রোজার পরেও।এতে করে কাজের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি বাড়তি উর্পাজন হবে একথা ভেবেও ওয়ার্ডার নেওয়া।কেননা সারা বছর এই ঈদটির আশায় বসে থাকেন বলেও জানান।

তারা আরও জানান, তবে এই সময়তে  কারিগরের বেশ সংকট ও দেখা দিয়ে থাকে। তাই ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে মোহম্মদীয়া সুপার মার্কেটের কাকলী টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী মাসুদ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা রাত দুইটা আড়াইটা পর্যন্ত কাজ করছি। আজ হয়তো সারা রাতই কাজ করতে হতে পারে।

কারণ নির্ধারিত সময়ে সবাইকে কাপড় সরবরাহ করতে হচ্ছে। অনেকে কাপড় নিয়ে বাড়ি যাবেন তাদের বিযয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবার ঈদের আর মাত্র একদিন মাঝে আগামীকালের মধ্যে দেওয়া না হলে ঈদের দিনতো নতুন জামা-কাপড় পড়তে পারবে না।

তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে রাজধানীতে যারা ঈদ করবেন তাদের কাপড় ডেলিভারির কাজ চলছে এখন। এক্ষেত্রে একটু দেরি হলেও গ্রাহকদের সমস্যা হবে না বলে জানান  তিনি।

তিনি আরও জানান, এই সময় সব কারখানায় কর্মচারীরা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। প্রতিবছরই তারা এ ধরনের কাজ করে থাকেন। তবে আমরা মালিকরা কর্মচারীদের বোনাস ও ঈদের ছুটি দিয়ে পুষিয়ে দেই বলেই ওরাও এভাবে পরিশ্রম করে বলে কাকঁলী টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী।

একই মার্কেটে টুম্পা টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী জানান,সারাবছরই টুকটাক কাজ করে চলতে হয়। তাই ঈদের সময়টাতে আমাদের একটা টার্গেট থাকে।

ঈদের পোশাকগুলোতে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেলাই করে থাকি।কখনো কখনো কাস্টমারের পছন্দের ডিজাইন ইউটিউব থেকে নামিয়ে আমাদের ডিজাইন করতে দেয়। আবার আমাদের কাছে থাকা ডিজাইনের বই থেকেও কাস্টমার তাদের পছন্দের পোশাকতৈরী করে।

তবে আমাদের কষ্ট হলেও আমরা সবাই এই সিজেনটাকে বিশেষ গুরুত্ব দেই।সেই সাথে গ্রাহকের পছন্দসই পোশাক তৈরী করে থাকি। তিনি প্রশ্নে বলেন, সারাবছর যে আয় হয় তাতে কর্মচারী দিয়ে কোনো মতো টিকে থাকা যায়। তাই ঈদের কর্মচারীরাও বিষয়টি বুঝে নির্ঘুম কাজ করেন।

তিনি বলেন, রমজানের প্রথম দিকে বেশি অর্ডার না হলেও শেষ মুহূর্তে অনেক কাজ এসেছে। এজন্য রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে বললেন রাফা প্লাজায় অবস্থিত টুইংকেল টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী  দিদারুল ইসলাম।

তিনি  বলেন, কারখানায় আটজন কারিগর দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। তারপরও সময় মতো ডেলিভারি দিতে হিমশিম খাচ্ছি।

দিদার আরও বলেন, মানুষ সারাবছর তেমন  পোশাক তৈরি করে না।  ঈদ উৎসবেই আমাদের সমাজের ধনী-গরিব সবাই নতুন পোশাক বানায়। আমরাও এই সময়টার প্রত্যাশায় থাকি। যার জন্য এই সময়টাতে আমাদের যেমন কাজের চাপ বেড়ে যায়। তেমনি আমরা বাড়তি টাকার মুখ দেখতে পাই, তাই শরীরের দিকে না তাকিয়ে আমাদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here