রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় কাঠাঁলের প্রেমে পড়ে যাবেন!

69

খন্দকার শাহীন আফরোজ: গ্রাম বাংলায় প্রবাদ আছে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল কিংবা অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া…এই একটিমাত্র ফল নিয়ে কতই না প্রবাদ বাক্য রয়েছে। তেমনি রয়েছে কবিতা গানে বলা হয়েছে পীরিত নাকি কাঁঠালের আঠার মতো, লাগলে পরে আর ছাড়ে না- সেই ফল নিয়েই গ্রাম বাংলার মানুষের ভাব-ভালোবাসার শেষ নেই।

আবার কেউ গন্ধ সহ্যকরতে পারেন না!আবার কেউ নাম শুনলেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। কেউ আবার স্বাদ করে খেতে পছন্দ করলেও সুগারের ভয়ে খেতে পারেন না।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল কিংবা মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া…এই একটিমাত্র ফল নিয়ে কতই না প্রবাদ বাক্য বা গান কবিতা রচিত  রয়েছে। কাঠাঁলের সাথে গ্রাম বাংলার মানুষেরা জৈষ্ঠ্য মাস এলেই মুড়ির সাথে,পান্তাভাতে এবং দুধে ভাতে খেতেও স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। নতুন আত্বিয় কুটুম বাড়ীতে জৈষ্ঠ্যের ফলের ঢালা সাঝানোর আগে কাঠাঁল আগে তুলেদেন! এই কাঠাঁল কারোর আবার অনেকে খেলে বদহজম হয়।

কিন্তু জানেন কি কাঁঠাল সম্পর্কে প্রচলিত এই সবকটি তথ্যই ভুল? অন্তত সাম্প্রতিক গবেষণা তাই বলছে।

ক্রান্তীয় জলবায়ু ছাড়া আর কোনও অঞ্চলেই কাঁঠাল পাওয়া যায় না।এরকম গল্পও শোনা গিয়েছে, ছেলে কাঁঠাল খেতে ভালোবাসে বলে মা ফ্লাইটে এখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর্যন্ত কাঁঠাল বয়ে নিয়ে গিয়েছেন।যাই হোক, এবার জেনে নিন কাঁঠালের গুণাগুণ।

কাঁঠালের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন,মিনারেলস, কার্বোহাইড্রেটস, ফাইবার, ফ্যাট, প্রোটিন, ইলেকট্রোলাইটস সব থাকে।এছাড়াও কাঁঠাল খেলে ত্বক ভালো থাকে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। চোখ ভালো থাকে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিচে দেখা যাক কাঠাঁলের উপকারিতা সর্ম্পকে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে :

কাঁঠালের মধ্যে থাকা পটাসিয়াম, সোডিয়াম হার্টের আর্টারি ড্যামেজ হয়ে যাওয়া আটকাতে সাহায্য করে। এছাড়াও পটাসিয়াম হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখে।

কাঠাঁলে রয়েছে ভিটামিন সি:

কাঁঠালের মধ্যে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা নানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

চোখের উপশমে :

কাঁঠালের মধ্যে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা চোখের উপকারে লাগে। যে কোনও রকম ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থেকে দূরে রাখে। এছাড়াও অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করে। এছাড়াও যাদের রেটিনার সমস্যা রয়েছে তারাও যদি কাঁঠাল খেতে পারেন উপকার পাবেন।

মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে :

কাঁঠাল খেলে ওজন বাড়ে? ভুল ধারনা। কাঁঠাল খেলে ওজন কমে। এছাড়াও এরমধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে। বলা হয় সুগার রোগীদের কাঁঠাল খাওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, সুগার রোগীদের কাঁঠাল খেলে সমস্যা নেই। কাঁঠালের মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক সুগার খুবই ধীরে রক্তে মেশে। ফলে সুগারের সম্ভাবনা থাকে না।

ওজন নিয়ন্ত্রণে :

কাঠাঁলের মধ্যে যে পরিমাণ ক্যালোরি আছে তা কিন্তু স্বাস্থ্যের উপযোগী। এছাড়াও এর নিউট্রিশন ভ্যালুও প্রচুর। তাই যারা ওজন কমাতে চাইছেন তাঁরা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল রাখুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here