রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটা হুমকি থেকে গেলো?

65

রাজনৈতিক বিশ্লেষনঃ

নতুন মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন গত ৭ই জানুয়ারি। তাদের অনেকেই দীর্ঘসময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীও রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি দমন করাসহ জনপ্রিয় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্যম নিয়ে এই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রীসভায় চমক এসেছে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এনিয়ে কথা সাংবাদিক,রাজনীতিবিধ-মানবাধীকার কর্মীদের সাথেঃ

কিন্ত সিনিয়র সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এই চমকের মন্ত্রীদের জন্য অভিজ্ঞতার ঘাটতি একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

একইসাথে হেভিওয়েটরা বাদ পড়ায় দলের ভিতরের এবং বাইরের রাজনীতিও নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন,”বড় চ্যালেঞ্জ হলো অভিজ্ঞতার চ্যালেঞ্জ। তারা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে আমলাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যেটা ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ়তার সাথে এগিয়ে যাবেন। সেখানে আমলারা বা প্রশাসন যদি বাধা হয়ে যায়, তাহলে কাজের গতি কমে যাবে।”

 

তবে ৩১ জন নতুন মুখের মধ্যে ২৭জনই এই প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন।তারা কতটা দক্ষতা দেখাতে পারবেন, সেই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন। “আরেকটা চ্যালেঞ্জ হলো ভিতরের এবং বাইরের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। ভিতরের চ্যালেঞ্জ হলো রাজনীতিক বলতে যাদের বোঝায়, তারা কিন্তু সবাই মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছে।”তাদের একটা অভিমান, ক্ষোভ থাকতে পারে। তারা তো দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাদের থেকে একটু অসহযোগিতা এলে, সেটা একটা চ্যালেঞ্জ হবে” – বললেন মি.আহমেদ।

রিয়াজউদ্দিন আহমেদ রাজনৈতিক অস্থিতিশীল একটা পরিবেশের হুমকিও দেখছেন।

“একটা বড় বিরোধীদল তারা একেবারে অনুপস্থিত সংসদে। চার পাঁচজন যে নির্বাচিত হয়েছে, তারাতো বলেছে, শপথ নেবে না। তারা না আসলে এ সরকারের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে একটা দূর্বলতা রয়ে গেলো। তারা কতদূর করতে পারবে, সেটা দেখার বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার একটা হুমকি থেকে গেলো।

আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীর মতো নেতারা সব মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং দলীয় রাজনীতির বাইরেও তাদের একটা বলয় বা শক্ত অবস্থান ছিল।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সাবেক একজন সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, তিনি নতুন মন্ত্রীসভায় পুরোদস্তর এবং প্রভাবশালী রাজনীতিকের অভাব দেখছেন। এটিও সরকারের কাজে এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

“রাজনীতিকে সংখ্যা কিন্তু এই মন্ত্রীসভায় কমে গেছে। এ কারণে আমি একটু দ্বিধান্বিত আছি যে, তারা কিভাবে বা কতটা ভূমিকা রাখতে পারবেন। আমাদের দেশে অর্থনীতির মুল উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আমাদের একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয়ের বৈষম্য বাড়ছে ব্যাপকভাবে।

এই বৈষম্য কমানোর জন্য যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সেটা কিন্তু ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিদের কাছে মুখরোচক হবে না।তারা এদিকে যাবে না। রাজনীতিকরা যদি মুল কতৃত্বে থাকতেন, তাহলে আশাটা বেশি হতো”-বলছিলেন মি. মজুমদার।

আওয়ামী লীগ টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকে আবারও সরকার গঠন করেছে। ফলে নতুন মুখ বেশি এনে মানুষের সামনে একটা বৈচিত্র তুলে ধরা বা নতুনত্ব দেখানোর একটা চেষ্টা ছিল। প্রভাবশালী রাজনীতিকরা বাদ পড়ার পাশাপাশি শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম বা নুরুল ইসলাম নাহিদের মতো যাদের নিয়ে সরকারকে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তারাও বাদ পড়েছেন, এমন যুক্তি দলটির অনেকে দেখিয়েছেন। তবে বর্ষীয়ান নেতাদের দলের কাজে লাগিয়ে সরকার এবং দলের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আনার চেষ্টার কথাও বলছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

এদিকে নতুন মন্ত্রীরা প্রশাসনকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেবেন,একইসাথে তাদের প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে কিনা, এসব প্রশ্ন থেকে যায় বলে উল্লেখ করেছেন মানবাধিকার কর্মি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলতানা কামাল।

“প্রধানমন্ত্রী দু’দিন আগে নিজে একটা কথা বলেছেন যে, মন্ত্রীরা নজরদারিতে থাকবেন। এখন সেটা কি প্রধানমন্ত্রীর নজরদারিত থাকবেন নাকি জনগণের নজরদারিতে থাকবেন, সেটা একটা মৌলিক প্রশ্ন আমাদের। এখন যারা নতুন মন্ত্রী হলেন, তাদের দায়িত্ব টিম হিসেবে জনগণের জন্য অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটানো নাকি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে কাজগুলো করা? এই প্রশ্ন থাকে।”

সুলতানা কামাল বলছেন, “আমলাতন্ত্রের যে বিষয় আছে, সামরিক বেসামরিক আমলা, তাদের ওপর এদের নিয়ন্ত্রণ কেমন হবে? মন্ত্রী হিসেবে সেই জায়গায় তাদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবেন, এই বিষয়টাও কিন্তু আমাদের দেখার আছে।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here