মুরগিছানাকে বাঁচাতে সঞ্চয়ের ১০ টাকা নিয়েই হাসপাতালে হাজির আদিবাসী শিশু

109

আন্তর্জাতিক সংবাদ: যেখানে রাস্তায় পড়ে থাকা কিংবা প্রতিবেশী অসুস্থ মানুষকে সাহায্য না করে পাশ কাটিয়ে চলে যান অনেকেই, আশ্চর্য হলেও সত্য গাড়ির ধাক্কায় ফুটপাথে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোর মৃত্যুর পরেও নির্লিপ্ত থাকেন কেউ কেউ, আর সেখানে এক শিশুর হ্দয়ের মানবিকতা এবং সরল মন ছুঁয়ে গেল সারা বিশ্বকে। দুর্ঘটনায় মৃত একটি মুরগীর ছানাকে বাঁচানোর জন্য যে ভাবে প্রাণপন চেষ্টা করে গেল শিশুটি, তা অবাক করার মতো।

শিশুটির বয়স মাত্র ৬ বছর।ভারতের মিজোরাম রাজ্যের  সাইরাঙের আদিবাসী বাসিন্দার শিশু “ ডেরেক সি লালছানহিমা”।শিশুটি সম্প্রতি বাই-সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত একটি মুরগিছানার উপর দিয়ে সাইকেলটা চালিয়ে ফেলে ডেরেক। সাইকেলের চাকায় পিষে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ওই মুরগিছানা।

একটা সামান্য মুরগির ছানার প্রাণ নিয়ে এত উদ্বিগ্ন সচরাচর কাউকেই হতে দেখা যায় না। ডেরেক কিন্তু তেমনটা হতে পারেনি। বিষয়টাকে পাত্তা না দিয়ে সাইকেল নিয়ে চলে যেতে পারেনি সে। বরং সাইকেল থেকে নেমে তৎক্ষণাৎ মুরগির ছানাটাকে হাতে তুলে নেয়। মুরগি ছানাটা নড়াচড়া করছিল না। মারা গিয়েছিল। কিন্তু ডেরেক সেটা বুঝতে পারেনি। কী করবে প্রথমে বুঝে উঠতে পারছিল না সে। মুরগীর ছানাটাকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে।

মুরগিছানাটা যে আর বেঁচে নেই সেটা অবশ্য প্রথম দেখাতেই বুঝে গিয়েছিলেন ডেরেকের বাবা। কিন্তু ছেলের এই চেষ্টায় তিনি বাধা দিতে চাননি তিনি। তাঁর পরামর্শেই ডেরেক বাড়ির কাছেই একটি হাসপাতালে মুরগিছানাটাকে নিয়ে যায় চিকিৎসার জন্য। সঙ্গে নিতে ভোলেনি তার সঞ্চয়ের ১০ টাকা।এক হাতে মুরগিছানা আর এক হাতে ১০ টাকা নিয়ে সে হাসপাতালে ঢুকে একটি নার্সকে সবটা বলে। নার্সের মন ছুঁয়ে যায় ডেরেকের সরলতা।

এক হাতে ১০ টাকা এবং অন্য হাতে মুরগিছানা নিয়ে ছবিটা ওই নার্সই তুলেছিলেন। সেটাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নার্সের তোলা ওই ছবিটা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ডেরেকের প্রতিবেশী সাংমা।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ফেসবুকের পোস্ট সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। একজন লিখেছেন, ‘তার খাঁটি এবং সৎ হৃদয়ের উপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক।’ কেউ তার মধ্যেই ঈশ্বরকে দেখেছেন তো কেউ লিখেছেন, ‘আমাদের সকলেরই ওর থেকে শেখা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here