মাসুদকে ভারতের হাতে তুলে দিন’ ‘ইমরানকে কটাক্ষ সুষমার

30

আন্তর্জাতিক সংবাদ:পুলওয়ামা কাণ্ড-সহ ভারতের বুকে একাধিক নাশকতার মূল কূচক্রী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকে ফেরত পেতে এ বার পাক প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপ বাড়াল ভারত। পাক প্রধানমন্ত্রী  ইমরান খানকে উদ্দেশ্য করে সূষমা স্বরাজের সওয়াল;‘‘পাক প্রধানমন্ত্রী যদি এতটাই উদার মানুষ হন, তা হলে পুলওয়ামা কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত মাসুদ আজহারকে আমাদের হাতে তুলে দিন।’’ একই সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতি সুষমার স্পষ্ট বার্তা-সন্ত্রাসে মদত এবং আলোচনা, এই দু’টি প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলতে পারে না।

পুলওয়ামা কান্ড পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার কাছে নিজের শান্তিকামী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের হাতে বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তির ঘোষণা করার পর থেকেই তাঁকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে পাক সংবাদমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের একাংশও সেই সুরে সুর মিলিয়েছে। ভারতের সঙ্গে শান্তি তৈরির জন্য আলোচনা চেয়েও তিনি আবেদন জানাচ্ছেন বারবার। পুলওয়ামা কাণ্ডের পরও তিনি দাবি করেছিলেন, ভারত প্রমাণ দিলেই এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

পাক প্রধানমন্ত্রীর এ হেন ইমেজ তৈরির চেষ্টাকেই এ বার কটাক্ষ করলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

গতবুধবার নয়াদিল্লিতে ইমরানকে উদ্দেশ্য করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘পাক প্রধানমন্ত্রী কত উদার, সেই কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। উনি যদি এতটাই উদার হন, তা হলে মাসুদ আজহারকে ভারতের হাতে তুলে দিক পাকিস্তান। তা হলেই বোঝা যাবে উনি আসলে কতটা উদার।’’

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে ভারতের পুরনো অবস্থানের কথাই জানিয়েছেন তিনি। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া এবং শান্তি আলোচনা, এক সঙ্গে এই দু’টি বিষয় যে ভারত মেনে নেবে না, পাকিস্তানকে সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বালাকোটের জইশ ঘাঁটিতে ভারতীয় বায়ুসেনার বোমাবর্ষণের পর পাক সেনার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুষমা। ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘ভারতীয় বায়ুসেনা জইশ ঘাঁটি ধ্বংস করতেই অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু আমাদের উপর পাল্টা হামলা চালাল জইশ নয়, পাকিস্তানি সেনা। কেন, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’’

এর পরই পাকিস্তানকে সরাসরি আক্রমণ করে সুষমা বলেন, ‘‘আপনাদের দেশের মাটিতে জইশ শুধু ঘাঁটি গেড়েছে, এমনটা নয়। আপনারা জঙ্গিদের আর্থিক সাহায্য করেন। আক্রান্ত দেশ পাল্টা অভিযান চালালে জঙ্গিদের হয়ে আপনারাই তাদের উপর হামলা চালান।’’ একই সঙ্গে পাক সেনা এবং পাক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) কবল থেকে পাকিস্তানকে মুক্ত করার জন্যও ইমরানকে পরামর্শ দেন তিনি।

পুলওয়ামা কাণ্ডের পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর ঠিক কী আলোচনা হয়েছিল, সেই কথাও সামনে এনেছেন সুষমা। তাঁর কথায়, ‘‘ওই সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রীরা আমাকে ফোন করে সান্ত্বনা দিতেন। তার পরই তাঁরা আমাকে নরম সুরে অনুরোধ করতেন খুব কড়া ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here