ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে “এলো মেলো করে দে মা লুটে পুটে খাই! ”

76

টা্ঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  বিগত ১৯ বছর ধরে অপরেশন হয়না, এক্সরে ও আলট্রা মেশিন নষ্ট এক যুগ ধরে। অনুসন্ধ্যানী  রির্পোটে না না অনিয়ম অভিযোগ বের হয়ে আসে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ রয়েছে  ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ্য সিট। ভূঞাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্তে ও দীর্ঘ ধরে কোন অপরেশন হয়না। এ যেনো “এলো মেলো করে দে মা লুটে পুটে খাই ” অবস্থা! তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা যায় হাসপাতালটিতে  হাসপাতালের এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিন নষ্ট এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। প্যাথলজি বিভাগেরও করুণ দশা। প্রচন্ড গরমের মধ্যেও মহিলা, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের অধিকাংশ ফ্যানই নষ্ট। এমন কি  রোগীদের খাবার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনুসন্ধ্যানে দেখা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বেশিরভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে।  হাসপাতালের দিকে এই ডাক্তারের কোন খেয়াল নেই!

হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার সংকটের কারণে ভূঞাপুর উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষ বঞ্চিত চিকিৎসা সেবা থেকে। হাসপাতালটি ৪টি উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ভূঞাপুরসহ পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল, গোপালপুর ও কালিহাতী উপজেলা থেকে ও রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসে এখানে। কারণ যাতায়াতে সময় বাচে এবং দ্রুত বাড়ী চলে যেতে পারেন রোগীরা,“তাই অন্যান্য উপজেলার রোগীরাও আসেন এই হাসপাতালে। কিন্ত‘প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটের কারণে কোনো সেবা না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সরকারি বিধি মোতাবেক বিশেষজ্ঞসহ ২৭জন চিকিৎসকের অনুমোদন রয়েছে। সেখানে কাগজে-কলমে ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৬ জন। বাকি ২১ জনের কেউ ডেপুটেশনে আবার কেউ বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একজন, ইউনানি একজন, ডেন্টাল সার্জন একজন, গাইনি একজন, অর্থপেডিকস একজন, শিশু বিশেষজ্ঞ একজন ও জেনারেল ফিজিশিয়ান রয়েছে একজন। এসব ডাক্তাররা সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিনের বেশি অফিস করেন না। স্বাস্থ্য  সহকারী, টেকনিশিয়ান, ল্যাবরেটরি এসিস্ট্যান্ট ও এমএলএসএস পদে ১টি করে পদ থাকলেও কোনো জনবল নেই। অফিস সহকারী ৩ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১ জন, স্বাস্থ্য  সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে ৫টি। সিকিউরিটি গার্ড থাকার কথা ৩ জন, সেখানে রয়েছে মাত্র ১ জন। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অপারেশন থিয়েটার থাকা সত্তে¡ও দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কোন অপরেশন হয়না। অযত্নে  অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি।

উল্লেখ্য সম্প্রতি হাসপাতালে সেবা না পেয়ে এক নারী রাস্তার উপরেই সন্তান প্রসব করে। যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালে একটি এক্সরে মেশিন দীর্ঘ এক যুগ ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আল্ট্রসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সনোলজিস্ট না থাকায় সেটিও বিকল এখন। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবে নামে মাত্র কিছু পরীক্ষা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে দুটি অ্যাম্বুলেন্সও।

যদিও ইতিমধ্যে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছেন নব নির্বাচিত সাংসদ ছোট মনি। এই তাপদাহ গরমের মধ্যেও নষ্ট রয়েছে হাসপাতালের অধিকাংশ ফ্যান। রোগীদের দিক চিন্তা করে স্বজনরা স্ট্যান্ড ফ্যান নিয়ে আসেন বাড়ি থেকে। এদিকে রোগীদের খাবার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। আরো অভিযোগ রয়েছে হাসপাতাল থেকে রোগীর জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা অত্যান্ত নিম্ন মানের। হাসপাতালের দিকে নজর না দিয়ে প্রধান কর্মকর্তা ব্যস্ত থাকেন নিজস্ব প্রাইভেট ক্লিনিক ও অন্যান্য প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিয়ে, অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনে! রোগীদের খাবার মান ও ওষুধের সরবরাহ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের।

প্রতিবেদকের কথা হয় রোগীর স্বজনদের সাথে তারা বালেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যেও মহিলা, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের অধিকাংশ ফ্যানই নষ্ট। রোগীদের দিক চিন্তা করে স্বজনরা স্ট্যান্ড ফ্যান নিয়ে আসেন বাড়ি থেকে। এদিকে রোগীদের খাবার মান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। হাসপাতাল থেকে রোগীর জন্য যে খাবার পরিবেশন করা হয় তা অত্যান্ত নিম্ন মানের। হাসপাতালের দিকে নজর না দিয়ে প্রধান কর্তা ডা. আবু সামা ব্যস্ত থাকেন নিজস্ব প্রাইভেট ক্লিনিক ও অন্যান্য প্রাইভেট ক্লিনিক নিয়ে।
আয়েশা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, তিন দিন ধরে মাকে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছি। ফ্যান নষ্ট। গরমে মায়ের সমস্যা আরো বেশি। তাই কোন উপায় না পেয়ে বাড়ি থেকে ফ্যান নিয়ে এসেছি। আমরা মহিরা মানুষ। নার্সদের বললে ওনারা বলেন উপরে জানান। আমাদের কিছু করার নেই। পারত পক্ষে কেউ যেন রোগী নিয়ে হাসপাতালে না আসে।
হাবিবুর রহমান হবি নামে এক রোগী জানান, কয়েকদিন ধরে হাসপাতারে আছি। হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেয় তা খাওয়া যায়না। শধু পাঙ্গাশ মাছ আর আলু দেয়। আর যে রান্না তা খাওয়া যায়না।
মর্জিনা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে কোনন পরীক্ষা হয়না। এক্সরে করে আসলাম সেবা ক্লিনিক থেকে। হাসপাতালের এক্সরে মেশিন নাকি নষ্ট।
মর্জিনা, আয়েশা, হাবিবুরের মতো হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসা সেবা, রোগীদের খাবার মান ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে। তারা দ্রুত এসব সমস্যার কার্যকরি সমাধান চান।
প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকা, এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাফী মেশিন নষ্ট, ফ্যান অকেজোসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সামা বলেন, বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এর সমাধান হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here