ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে গোলাপ চাষীদের স্বপ্ন

51838

লোটন আচার্য্য সাভার (ঢাকা) : লালের সমাহারে ছোয়েছে ফুলের রানীর গ্রাম সাভারের বিরুলিয়া । সবুজ শ্যামলের প্রকৃতির অপরুপ সাজ-সজায় সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম সেজেছে গোলাপের লালে। বিরুলিয়া ইউনিয়নে গোলাপ চাষে সাঁড়া ফেলায় দর্শনাথী, ফুলের ক্রেতা, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের রয়েছে সরগরম। গোলাপ ফুলের গ্রাম বা রাজ্য নামেই বিগত বছর গুলোতে পরিচিতি মিলেছে এই অঞ্চল ।

সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের শ্যামপুর , আক্রাইন ,সাদুল্ল্যাপুর ,মৈস্তাপাড়া,বাগ্নীবাড়ি,সামাইর,কালিয়াকৈর , ভবানীপুর ,রাজারবাগ ,নয়াপাড়া ,খাগান,কমলাপুরসহ সাভার উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে গোলাপ ফুলের। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিনিয়ত গোলাপসহ বেশ কিছু ফুলের চাহিদা মিটাচ্ছে এই অঞ্চলের চাষীরা ।তারা পহেলা ফাল্গুন , ভালোবাসা দিবস ও একুশে ফেব্রুয়ারি বিশেষ দিবসে ফুলের চাহিদা থাকায় চাষীদের সময় পার হচ্ছে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে।
গোলাপ চাষীরা জানায়, সাভারে প্রায় তিন’শ হেক্টর জমিতে শুধু মাত্র গোলাপের চাষ করা হয় । বেশ কয়েক বছর আগে গোলাপ চাষ অধিক পরিমানে লাভ জনক হওয়ায় এতে স্থায়ীদের আগ্রহের সৃষ্টি হয় । এতে ঝুঁকেন ওই এলাকার স্থানীয় ও গ্রামের বেকার যুবকেরা । তবে গত বছরে গোলাপ বাগানে ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চাষীদের হতে হয়েছে ক্ষতির সম্মূখীন । তবে এবছরের আশানূরুপ ফলনে চাষীদের মুখে রয়েছে সুখের হাঁসি ।

গোলাপ চাষী আবু সাঈদ জানান, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে মিরিন্ডা জাতের গোলাপ চাষের উপযোগী । উবর্র ও নিষ্কাশিত জমিতে গোলাপ চাষের জন্য অধিকতর লাভজনক বলে জানান তিনি ।তাই বৃষ্টি পরিমান ঠিক থাকায় গোলাপ চাষের আবাদ ভালো হয়েছে । তবে এসময় তিনি আরো জানান, সরকার সহজ শর্তে অন্যান্য চাষীদের ঋণ সুবিধা ও কীটনাশক জাতীয় সারের ব্যবস্থা থাকলেও গোলাপ চাষীদের এসব সুযোগ-সুবিধা নেই । তাই গোলাপ চাষীদের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সরকারের কাছে, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও বিভিন্ন সারের মূল্য হ্রাসের দাবি জানান ।

অপর দিকে ওই এলাকার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ও তরুণ গোলাপ চাষী আবুল খায়ের জানান,  ‘ভালোবাসা দিবস ,পহেলা ফল্গুন ও একুশো ফেব্রুয়ারি জন্য ফুলের চাহিদা রয়েছে বেশি ’ ।সারা দিন চাষীরা ফুল কার্টার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে । মৌসুমে চাষীদের গত বছরের তুলনায় এবার অনেকটা ভালো দাম পাচ্ছে বলে জানান তিনি । তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ১০ দিনে গোলাপের চাহিদা বেশি থাকায় ও মূল্য ভালো পাওয়ায় চাষীদের মধ্যে রয়েছে যোগানের তুমুল আগ্রহ ।
তবে ফুলের দাম যাই হোক সন্ধ্যা হলেই বিরুলিয়া এলাকায় মৈস্তাপাড়া ও উত্তর-দক্ষিণ শ্যামপুররে জমে ওঠে গোলাপের হাট । কেনা-বেচায় সরগরমের রাতে কয়েক ঘন্টায় রাজধানীসহ আশে পাশের অঞ্চলের পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের পদচ্চারণায় মূখর হয়ে পড়ে ।
শাহাবাগ এলাকার ফুল ব্যবসায়ী কবির জানান, ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন এবং একুশো ফেব্রুয়ারি মিলে ফুলের চাহিদা রয়েছে অনেক । চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে যোগান দিচ্ছে এই অঞ্চলের চাষীরা । এসময় ফুলের দাম জানতে চাইলে তিনি জানান , ৩শ ফুলের দাম ১২শ থেকে ১৫শ টাকায় তারা ক্রয় করছেন । রাজধানীর বাজারে খুচরা বিক্রেতারা ২৫- ৪০টাকা মূল্যে পিস বিক্রয়ে সম্ভব রয়েছে বলে জানান তিনি ।

অপর দিকে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডে খুচরা ফুল বিক্রেতা ফরিদ জানান,‘বিয়ে বা অন্য কোনও অনুষ্ঠান ছাড়া সারা বছর ক্রেতার সাড়া নেই,অনেক ফুল বিক্রি না করতে পেরে নষ্ট হয়ে যায় তাই ফেলে দিতে হয়’ । তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ফুলের চাহিদা রয়েছে ও ক্রেতার সাঁড়া পাওয়া সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান তিনি ।

তবে সাভার উপজেলার কৃষি অফিসার মোহম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, নভেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পযর্ন্ত গোলাপের উত্তম ফলন পাওয়া যায় । এবার সাভার উপজেলায় গোলাপের আবাদ ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা লাভেবান হবে বলে জানান তিনি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here