বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন: কাদের

91

বিশেষ প্রতিবেদকঃ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দল ছাড়তে শুরু করেছেন। তাঁরা এখন কী করবেন, এটা খুঁজে পাচ্ছে না। দল থেকে পদত্যাগ করছেন, অনেকেই করবেন। নেতারা নিজনিজ দল থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করবেন। বিএনপি এখন নেতৃত্বশুন্য,তাই বিএনপি’র এখন সবাই নেতা! যার যার মত স্বাধীনভাবেই তারা নির্োচন করবে,জনপ্রিয়তা থাকলে,জনগণভোট দিলে বিজয়ি হবে।উপজেলা নির্বাচন নিরপেক্ষ বলেই বিএনপি নেতারা জাতীয় নির্বাচনের মতই অংশ নিবে।

আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন ফরম বিক্রির শুরুতে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে দুজন সংসদ সদস্যকে শপথ নিতে বারণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা কি শুনবেন নেতৃত্বের বারণ ? আমার তো মনে হয় না।’ তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে গণফোরামের প্রার্থী সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও মুকাব্বির খান শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্টের নিষেধ মানবেন না।

গণফোরামের সাংসদের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আমার তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, জনগণ তাঁদের ভোট দিয়েছে। তাঁরা জনগণের হয়ে সংসদে কথা বলতে চান। এ রকম মনোভাব তাঁদের মধ্যে আছে। এই অবস্থায় তাঁদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না করার যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর না-ও হতে পারে।’

বিএনপির বিষয়ে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, বিএনপির পাঁচজনের বেলায় কী হবে, সেটাও এই মুহূর্তে বলা যাবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম যে নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের চাপের মুখে কত দিন শপথ না নিয়ে থাকতে পারবেন, এটাও ভেবে দেখতে হবে। অথবা কৌশলগত কারণে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি না এলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার অভাব হবে বলে মনে হচ্ছে না। এটা তো জাতীয় নির্বাচন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী অনেক থাকবে। তবে এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ একেবারেই কম।

বিএনপি নির্বাচনে না এলেও অনেক দলই নির্বাচন করবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে না, এটা দলীয়ভাবে তারা বলেছে। কিন্তু ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে তাদের ওয়ার্ড পর্যায়ে অনেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কাউন্সিলরে দলীয় প্রতীক নেই, তারা কিন্তু নির্বাচনে আছে। তারা একেবারে মাঠে নেই, এ কথা বলা যাচ্ছে না।

বিএনপি কোনো ধরনের কৌশল নিয়েছে কি না? সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘রাজনীতিতে এসব কৌশল, কূটকৌশল থাকে। সবাই সবারটা মাথায় রাখে। বিএনপি এমন কী করতে পারে, এটাও আমরা মাথায় রাখছি।

তারা ওপেনলি মাঠে থাকছে না, আবার ভেতরে ভেতর মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছে। এখন উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে পারে, দিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের সবকিছুই মাথায় আছে, রাখতে হচ্ছে।’

বিএনপির কর্মসূচি মোকাবিলা করার কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘আন্দোলন যাকে বলে, সেটা গণ-আন্দোলন। গণ-আন্দোলন করার মতো অনেক ইস্যু তাদের হাতে ছিল। যেমন ধরুন, খালেদা জিয়া যখন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে গেলেন, তিনি জেলে যাওয়ার মতো সেনসিটিভ ইস্যু তাদের দলের জন্য ছিল।’

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ইস্যুকে যারা কাজে লাগাতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে। তারা নতুন করে কোন ইস্যুতে আন্দোলন করবে? তাদের হাতে তো কোনো ইস্যু নেই। আন্দোলনের অ্যাজেন্ডা হিসেবে যেটাকে বিএনপি পিক করতে পারে, নতুন সরকারের এমন তো কোনো ইস্যু নেই।

মন্ত্রী কাদের বলেন, ‘বিএনপি এখন এই মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ এলোমেলো একটি দল। নির্বাচনে হেরে পথিক যেমন পথ হারায়, সেই দিশেহারা পথিকের মতো এখন বিএনপি। তারা কী করবে না-করবে, সেটাই তারা ভেবে পাচ্ছে না। কিংকর্তব্যবিমূঢ় এখন বিএনপি। তাদের দলের মধ্যে যখন মিটিং বসে, তখন ভিন্ন ভিন্ন মত আমরা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here