বায়ুমণ্ডলেই জ্বলে যাবে টুকরো, এ-স্যাট নিয়ে নাসার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিল পেন্টাগন

12

বিশেষ প্রতিবেদন: এ-স্যাট’ নিয়ে নাসার আশঙ্কাকে কিছুটা উড়িয়েই দিল পেন্টাগণ । গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসন স্পষ্টই জানাল, যতটা আশঙ্কা নাসার, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস তেমন কিছু ঘটবে না। বায়ুমণ্ডলেই ধ্বংস হয়ে যাবে মাইক্রোস্যাটের ধ্বংসাবশেষগুলি। এ-স্যাট নিয়ে একটি সমীক্ষার পর এমনটাই দাবি করল পেন্টাগন।

আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ পৃথিবী থেকে ৩০০ কিলোমিটার উপরে নিজেদের ‘মাইক্রেস্যাট’কে উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ‘এ-স্যাট’ দিয়ে ধ্বংস করেছিল ভারত। ফলে মাইক্রোস্যাট-এর ৪০০-রও বেশি টুকরো কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়ে। ‘এমিস্যাট’ উত্‌ক্ষেপণের আগে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। পরে অবশ্য নির্বিঘ্নেই উত্‌ক্ষেপণ হয় এমিস্যাট-এর।

নাসা প্রধান জিম ব্রিডেনস্টিন গত সোমবার বলেন, কক্ষপথে ঘুরছে, মাইক্রোস্যাটের এমন চারশোরও বেশি টুকরো তাঁরা চিহ্নিত করেছেন। যাদের গতিবেগ ওই মাইক্রোস্যাট-এর মতোই। সেগুলো কক্ষপথে প্রদক্ষিণের সময় কোন দিকে ছুটবে বা কার গায়ে গিয়ে ধাক্কা মারবে এবং তার পরিণতিই বা কী হবে সে বিষয়ে কেউই জানেন না। তবে মাইক্রোস্যাট-এর এই টুকরোগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের যে বড় ক্ষতি হতে তেমন আশঙ্কাই প্রকাশ করে নাসা। এবং এই ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর, ভয়াবহ ঘটনা’ বলেও উল্লেখ করেন ব্রিডেনস্টিন। আনন্দবাজার পত্রিকার সংবাদে প্রকাশ এই নাসা আশঙ্কা প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কার্যনির্বাহী সচিব প্যাট্রিক শানাহান গত ২৮ মার্চই দাবি করেছিলেন, এ-স্যাট মিশনে তৈরি হওয়া টুকরোগুলোর কারণে কোনও রকম অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ তিনি মনে করেন বায়ুমণ্ডলেই ওই টুকরোগুলো জ্বলে যাবে। তা হলে শানাহান যে দাবি করেছিলেন সেটাকেই কি সঠিক বলে ধরে নিচ্ছে পেন্টাগন? ‘অবশ্যই’, এমনটাই জানিয়েছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র চার্লি সামার্স।

ভারতের মাইক্রোস্যাট-এর ধ্বংসাবশেষ নিয়ে যখন নাসা হইচই করছিল, সে সময়ই শানাহান দাবি করেছিলেন ২০০৭-এ চিনের এই একই ধরনের মিশনের কথা মাথায় রেখেই অনেক নিচের কক্ষপথে পরীক্ষাটা চালিয়েছে ভারত। ২০০৭-এ উপগ্রহ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র উত্‌ক্ষেপণ করেছিল চিন। পেন্টাগনের হিসেবেই, সেই ঘটনায় প্রায় তিন হাজারেরও বেশি টুকরো কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়ে। সেগুলো থেকেই গিয়েছে। নষ্ট হয়নি। শানাহানের দাবি, ভারতের এ-স্যাট মিশনে তেমনটার কোনও সম্ভাবনা নেই। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ স্তরের এক বিজ্ঞানীও এমনটাই দাবি করে জানিয়েছেন, ৪৫ দিনের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা টুকরোগুলো বায়ুমণ্ডলের আপার আয়োনোস্ফিয়ারে জ্বলে যাবে।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here