প্রতিবাদ করিতে না পারিলেও প্রকাশ করেছে আর্তনাদ

176

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

১৬টি কুকুর ছানা মুখের ভাষায় আর্তনাদ বা প্রতিবাদ প্রকাশ করিতে না পারিলেও তার পরেও প্রকাশ করেছে কুকুর ছানাগুলো ! ভারতের নীলরতন সরকারী,“ মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে ” করুণ কণ্ঠে আর্তনাদ করছে,অবুঝ শিশুদের মতই কুকুর ছানাগুলো। অন্যদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাদের মা। সেই অবস্থাতেই পর পর মোটা লাঠির আঘাত নেমে আসছে ছোট্ট প্রাণীগুলোর উপর। এলোপাথাড়ি লাঠির কয়েকটা ঘা খেয়েই নিথর হয়ে গিয়েছে কুকুর ছানাটি। কিন্তু তারপরও আততায়ীদের আক্রোশ মিটছে না। লাঠি দিয়ে সেই নিথর দেহর উপরই চলছে একের পর এক আঘাত।

নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে গতকালরবিবার দুপুরে ষোলটি কুকুর ছানার দেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই আজ সকালেই প্রকাশ্যে এল ২৬ সেকন্ডের একটি ভিডিয়ো। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে দু’জন মহিলা হাতে মোটা লাঠি নিয়ে পর পর আঘাত করছেন ছোট্ট কুকুর ছানাদের। এক জনের হাতে দেখা যাচ্ছে একটি মৃত কুকুরের ছানাও। সেটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন ওই মহিলা।

ভিডিওটি দেখে বোঝা যাচ্ছে জায়গাটি একটি সরকারি হাসপাতাল চত্বর। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতাল চত্বরে বসবাসকারী হাসপাতাল কর্মীদের একাংশ দাবি করেছেন ওই জায়গাটি এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ চত্বর। পাশেই ডেন্টাল কলেজের ছাত্রদের হোস্টেল। রবিবার হাসপাতালে ১৬ ষোলটি কুকুর ছানার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে এন্টালি থানার পুলিশ। অভিযোগ জানিয়েছেন একাধিক পশুপ্রেমী এবং কয়েকটি পশুপ্রেমী সংগঠন। পাশাপাশি থানায় হাসপাতালের সুপার নিজেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁরাও ওই ভিডিয়োটি পেয়েছেন। তাঁরা সেই ভিডিয়ো খতিয়ে দেখছেন। রবিবারের কুকুর ছানাদের মৃত্যুর সঙ্গে ওই ভিডিয়োর কী যোগ সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্মী এবং আবাসিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে ওই দুই মহিলাকেও।

অন্যদিকে গতকালের ওই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় সমালোচনায় মুখর হয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

রবিবার বিকেলে যে পশুপ্রেমীরা প্রথম পৌঁছেছিলেন হাসপাতাল চত্বরে, তাঁদের একজন পায়েল গুহ। তিনি বলেন,“আমরাও ভিডিয়ো দেখেছি। পাশের নার্সিং হস্টেলের ছাত্রীদের দেখিয়েছি। তাঁরা দু’জনকে চিহ্নিত করেছেন।” পায়েল-সহ অন্য পশুপ্রেমীদের দাবি, নার্সিং হস্টেলের জুনিয়র ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু সূত্র তাঁরা পেয়েছেন। তা পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তাঁদের সন্দেহ এই ঘটনার সঙ্গে যোগ রয়েছে নার্সিং হস্টেলের কিছু ছাত্রীর। এ দিকে এ দিন সকালেই বেলগাছিয়ার পশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ষোলটি কুকুর ছানার দেহ। সেখানে ময়না তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অনেকগুলি কুকুর ছানার মাথায় এবং দেহে আঘাতের চিহ্ন আছে। মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়েছে অনেক গুলি ছানার। তার সঙ্গে বিষ খাওয়ানো হয়েছে কি না, তা ময়না তদন্তের পর জানা যাবে। পুলিশ হাসপাতাল চত্বরের মধ্যে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও সংগ্রহ করেছে। 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here