নাইকো দুর্নীতি অভিযোগ গঠনের শুনানী ৪ ফেব্রুয়ারি

132
হাজিরা দিতে হুইল চেয়ারে আদালতে খালেদা

নিজস্ব সংবাদঃ নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। আজ সোমবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯নং বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত শুনানি নিয়ে এদিন ধার্য করেন।

এদিন আদালতে দেড় ঘন্টা শুনানি হয়। খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে করে দুপুর সাড়ে ১২টায় হাজির করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ১টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়াকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আবদুর রেজাক খান, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান খান, মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

এই মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদও শুনানিতে অংশ নেন। অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মোশাররফ হোসেন কাজল।

খালেদা জিয়ার পক্ষে আংশিক শুনানির পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করেন। অপর আসামি শহিদুল হকের পক্ষে অপর এক আইনজীবী আংশিক শুনানি করে সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী শুনানির জন্য ৪ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

নাইকো দুর্নীতি মামলা সূত্রে জানা যায়, কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

মামলা করার পরের বছর ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সাংসদ এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় যথাক্রমে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here