নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া আবার শুরু

31

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নতুন করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও নির্বাচনের কারণে গত বছর গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সব খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম গড়ে ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। এ ছাড়া গ্যাস সঞ্চালন মাসুল বৃদ্ধির প্রস্তাব পাঠিয়েছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানি (জিটিসিএল)।

এসব প্রস্তাবের ওপর মার্চের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত গণশুনানির আয়োজন করবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্প-ব্যবসায়সহ জনগণের দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কারণে এ খাতের ব্যয় বেড়েছে, যা সমন্বয়ের জন্যই গ্রাহক পর্যায়ে দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রমতে, নতুন প্রস্তাবে বাসাবাড়িতে দুই বার্নার চুলার গ্যাসের দাম ৮০০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ২০০ এবং এক বার্নারের দাম ৭৫০ থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকার কথা বলা হয়েছে। আবেদন গৃহীত হলে আবাসিক ছাড়াও দাম বাড়বে বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি, শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের। গত বছরের আগস্ট থেকে দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির ব্যবহার শুরু হয়। এলএনজির আমদানি ব্যয় বেশি হওয়ায় লোকসান হবে এমন যুক্তিতে গত মার্চ মাসেই বিতরণ ও সঞ্চালন কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির আবেদন করে। গত জুন মাসের তাদের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি।

সব হিসাব বিবেচনা নিয়ে বিইআরসির মতে, প্রতি ঘনমিটারে ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে সরকার সে সময় দাম বৃদ্ধির বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে। পরে কমিশন দাম না বাড়িয়ে সরকারকে গ্যাস খাতে ভর্তুকির পরামর্শ দেয়। বিতরণ কোম্পানিগুলোর লোকসান কমাতে সরকারও এলএনজি সরবরাহ পর্যায়ের ভ্যাট বাদে আমদানি ও উৎপাদন পর্যায়ে সব ধরনের শুল্ক ও কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। এসব কারণে গত ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের আগের দামই বহাল রাখার ঘোষণা দেয় কমিশন। বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় দাম ৭ টাকা ১৭ পয়সা।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে পাঁচ গ্যাস বিতরণ কোম্পানি আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্য, বিদ্যুৎসহ সব খাতেই দাম বাড়ানোর আবেদন করেছে। তাদের আবেদনের ওপর ১১ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত শুনানি হবে। প্রথম দিন জিটিসিএলের সঞ্চালন মাসুল বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর পর তিন দিন বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির আয়োজন রয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলেছেন, বর্তমানের প্রতিযোগিতার বাজারে গ্যাসের দাম আবার বাড়ানো হলে শিল্প কারখানা টিকতে পারবে না। কারণ এতে শিল্পপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর সার্বিক প্রভাব পড়বে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ও পর। এর আগে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। সে বছরের মার্চ ও জুলাই থেকে দুই ধাপে তা কার্যকর হয়।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here