দু’একটি হিমবাহকে গলিয়ে,সমুদ্রের জলস্তর আরও৮ফুট উপরে আসবে

122

আন্তর্জাতিকডেস্কঃ যতটা জায়গা জুড়ে আমাদের কলকাতা জেলা, তার তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ এলাকা জুড়ে সুবিশাল ফাটলের হদিশ মিলল আন্টার্কটিকার দৈত্যাকার একটি হিমবাহ বা গ্লেসিয়ারে। ফাটলটির গভীরতা এক হাজার ফুটেরও বেশি। ভূগর্ভের এতটা কাছাকাছি আন্টার্কটিকার কোনও বিশাল হিমবাহে এর আগে এত বড় ফাটলের খোঁজ মেলেনি। পশ্চিমবঙ্গ যতটা জায়গা জুড়ে রয়েছে, হিমবাহটি রয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি এলাকায়।

দৈত্যাকার হিমবাহে সেই ফাটলটা ভূগর্ভের এতটা কাছাকাছি যে, বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ, লাগোয়া মহাসাগরের জল তার ভিতর দিয়ে ঢুকে খুব দ্রুত গলিয়ে দিতে পারে গোটা গ্লেসিয়ারটাকেই। ওই হিমবাহে যতটা বরফ রয়েছে, তা যদি পুরোপুরি গলে যায়, তা হলে সাগর, মহাসাগরের জলস্তর উঠে আসবে অন্তত ২ ফুট বা ৬৫ সেন্টিমিটার

কী ভাবে মিলল সেই ফাটলের হদিশ?

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা নাসার ‘আইসব্রিজ’ উপগ্রহে বসানো রাডারের পাঠানো ছবিতেই আন্টার্কটিকার হিমবাহের অত গভীরে ফাটলটি ধরা পড়েছে। একই ছবি পাঠিয়েছে কক্ষপথে থাকা ইতালি ও জার্মানির উপগ্রহের রাডারও। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ। যার শিরোনাম- ‘হেটরোজিনাস রিট্রিট অ্যান্ড আইস মেল্ট অফ থোয়েইট্‌স গ্লেসিয়ার, ওয়েস্ট আন্টার্কটিকা’। দুই মূল গবেষক নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী পিয়েত্রো মিলিল্লো ও আরভিনের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক রিগনটের সঙ্গে ওই আন্তর্জাতিক গবেষকদলে রয়েছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা নাসার ‘আইসব্রিজ’ উপগ্রহে বসানো রাডারের পাঠানো ছবিতেই আন্টার্কটিকার হিমবাহের অত গভীরে ফাটলটি ধরা পড়েছে। একই ছবি পাঠিয়েছে কক্ষপথে থাকা ইতালি ও জার্মানির উপগ্রহের রাডারও। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ। যার শিরোনাম- ‘হেটরোজিনাস রিট্রিট অ্যান্ড আইস মেল্ট অফ থোয়েইট্‌স গ্লেসিয়ার, ওয়েস্ট আন্টার্কটিকা’। দুই মূল গবেষক নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী পিয়েত্রো মিলিল্লো ও আরভিনের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক রিগনটের সঙ্গে ওই আন্তর্জাতিক গবেষকদলে রয়েছেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমন বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

পুণের ন্যাশনাল সেন্টার ফর আন্টার্কটিক অ্যান্ড ওশ্‌ন রিসার্চ (এনসিএওআর)-এর অধিকর্তা, বিশ্বের অন্যতম বিশিষ্ট আন্টার্কটিকা ও হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এম রবিচন্দ্রনের কথায়, ‘‘আন্টার্কটিকার মতো জায়গায় কোনও সুবিশাল হিমবাহের নীচে অত বড় ফাটল অবশ্যই অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ, সেই ফাটলই হিমবাহটিকে দ্রুত গলিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বরফ গলে যাওয়ার ফলে ওই ফাটলের জন্ম হয়েছে। আর সেটি রয়েছে ভূগর্ভের খুব কাছাকাছি। ফলে, প্রচুর তাপশক্তির জন্ম হবে ফাটলটির মধ্যে। তা হিমবাহটির নীচের দিকের অন্যান্য স্তরগুলিকেও দ্রুত গলিয়ে দিতে শুরু করবে। আর সেই ফাটল দিয়েই হু হু করে ঢুকবে লাগোয়া মহাসাগরের জল। সেটাও হিমবাহটিকে আরও দ্রুত গলিয়ে দেবে।

পশ্চিমবঙ্গের মোট এলাকার দ্বিগুণেরও বেশি জায়গা জুড়ে থাকা থোয়েইট্‌স হিমবাহটির বরফ গলে যাওয়ার ফলে ইতিমধ্যেই সমুদ্রের জলস্তর উপরে উঠে আসতে শুরু করেছে উদ্বেগজনক ভাবে। উষ্ণায়নের জন্য সমুদ্রের জলস্তর গত এক দশকে যতটা উঠে এসেছে, তার প্রায় ৪ শতাংশ ইতিমধ্যেই উঠেছে থোয়েইট্‌স হিমবাহটির বরফ গলে যাওয়ার ফলে।

রবিচন্দ্রন বলছেন, ‘‘আরও উদ্বেগের কারণ, ওই ফাটল দিয়ে লাগোয়া মহাসাগরের জল হু হু করে ঢুকে যদি থোয়েইট্‌সের আশপাশে থাকা আরও দু’-একটি হিমবাহকে গলিয়ে দেয়, তা হলে সমুদ্রের জলস্তর আরও ৮ ফুট উপরে উঠে আসবে।’

আগামী বছরের মধ্যেই ওই হিমবাহে নেমে আরও পরীক্ষানিরীক্ষা (ফিল্ড স্টাডি) চালাবে একটি আন্তর্জাতিক গবেষকদল। যার নাম- ‘ইন্টারন্যাশনাল থোয়েইট্‌স গ্লেসিয়ার কোলাবরেশান’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here