দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশী যুবক নিহত

49

কামাল হোসেন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার টেরকী গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন (৩০) নামে এক যবুক র্দবৃত্তদের গুলিতে নিহত। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নিউ ক্যাসেল শহরে স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।  বিষয়টি গতকাল শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় রাতে।

নিহত জয়নাল আবেদীনের মামা দুদু মল্লিক জানান, এইচএসসি পাশ করে দশ বছর আগে জয়নাল আবেদীন দক্ষিণ আফ্রিকা যান। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার নিউ ক্যাসেল শহরে নিজেই একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন  সেখানে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাসেল শহরে  ব্যবসা করে তিনি বেশ  আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেন ।  তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশেই  নিহত জয়নাল আবেদীন একটি কন্টেইনারে থাকতেন।  বুধবার রাতে কাজ সেরে প্রতিদিনের মত জয়নাল সেখানে ঘুমিয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে তাকে কেউ ডাকাডাকি করলে জয়নাল জানালা খুলে বাইরে উঁকি দেয়।  সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তার কপালের বাম পাশে গুলি করে। গুলিটি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

সেখানকার প্রতিবেশী এক বাঙালী যুবক বৃহস্পতিবার সকালে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে তার মৃত্যুর সংবাদ দেন। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রতিবেদককে দুদু মল্লিক আরো জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সেখানে জয়নালের পরিচিত লোকজনই টাকার লোভে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কারণ বুধবার বিকেলে জয়নাল আবেদীন বাড়িতে ফোন করে জানায় যে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সে কানাডায় চলে যাবে। এজন্য তিনি নগদ ২০ লাখ টাকা হাতে রেখে দিয়েছে। সেখানে জয়নাল একটি গাড়িও কিনেছিল। কানাডা যাওয়ার আগে তিনি দোকান ও গাড়ি বিক্রি করে সব টাকা বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। সবমিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা হবে। আসছে রমজানের  ঈদে বাড়িতেও আসার কথা জানিয়েছিল জয়নাল। কিন্তু ওইদিন রাতেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে নিহত জয়নাল আবেদীন ছিল দ্বিতীয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে একইভাবে খুন হন জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আমিন (২৫)। ঢাকার কেরানীগঞ্জে থেকে তিনি ম্যান পাওয়ারের ব্যবসা করতেন। হঠাৎ একদিন তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে আমীনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিকভাবে দুটি ঘটনায় দুই ছেলেকে হারিয়ে তাদের পিতা-মাতা এখন পাগল প্রায়।  পরিবারের পক্ষ থেকে জয়নাল আবেদীনের লাশ  যাতে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সেই ব্যাপারে রাস্ট্রের নিকট সহযোগিতা চেয়েছেন ।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here