ট্রেনটি উদ্ধারে কাজ চলছে সিলেটের পথে ট্রেন চালু হতে গড়িয়ে যাবে সন্ধ্যা

88

সৈয়দ ফয়েজ আহম্মেদ : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দুর্ঘটনা কবলিত উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে উদ্ধারে কাজ চলছে। ঘটনাস্থল থেকে আমাদের স্থানীয় সংবাদদাতা জানিয়েছেন, আজ সকালে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে ট্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোকে টেনে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের লোকজন বেঁকে যাওয়া লাইনগুলো সোজা করার চেষ্টা করছেন।

দুর্ঘটনায় খালের পানিতে পড়ে যাওয়া ট্রেনের একটি বগিকে এখনও ওপরে উঠানো সম্ভব হয়নি। সেটিকে তুলতে বড় ক্রেন প্রয়োজন বলে কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছেন আমাদের স্থানীয় সংবাদদাতা।

উদ্ধার কাজে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের লোকজনকে সহায়তা করছেন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) রফিকুল ইসলাম, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মোজাম্মেল হোসেন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের কাছে যে সেতুটি ভেঙে আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, সেই সেতুটির সংস্কার ও বগির উদ্ধারকাজ শেষ হতে হতে আজ বিকেল গড়িয়ে যাবে বলে ধারণা দিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

আজ সোমবার সকালে রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে কাজ শুরু করেছে। সেতুর সংস্কারকাজ আর বগি উদ্ধারের কাজ শেষ হতে হতে বিকেল হয়ে যাবে। তারপরই হয়তো সিলেটের পথে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করা যাবে।’

রেল সচিব মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মুজিবুর রহমান, রেলের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম, রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিলসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারপরই রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘দুর্ঘটনাস্থলের পাঁচটি বগি সরাতে আখাউড়া থেকে ক্রেন আনা হয়েছে।’

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

গতকাল রাতে দুর্ঘটনার পর মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার বরমচাল স্টেশন থেকে ২০০ মিটার দূরে ইসলামাবাদ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিকের বগিতে বিকট শব্দ হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যে সামনে বড়ছড়া ব্রিজ ভেঙে একটি বগি পড়ে যায়।আরো তিনটি বগি ব্রিজের পাশে উল্টে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ ছাড়া অন্য দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।’স্থানীয়রা মনে করছেন, একে তো সেতুটি অনেক আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তার ওপরে ট্রেনটির গতিও ছিল বেশ।

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরাইলের শাহবাজপুরে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ঢাকা-সিলেট সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এ কারণে গতকাল রাতে ট্রেনে যাত্রীসংখ্যা অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

অন্য সময় ট্রেনটি ১৫টি বগি নিয়ে যাতায়াত করলেও গতকাল ট্রেনটিতে ১৭টি বগি ছিল।

উদ্ধারকাজে আসা রেললাইনের পাশের গ্রাম নন্দনগরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৪৫) এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘ব্রিজের সাইডে পাত দুইডা লাগানো থাকে, জোড়ার মধ্যে।

এর এদিকে একটি নাট, ওদিকে আরেকটি নাট। আর কোনো নাট নাই। গাড়ি যখন যায়, তখন খালি কাঁপে, ঝিলকা মারে। প্রায় সময়ই আমরা রেলের মানুষকে বলছি। এখানে একটা সমস্যা ঘটবে। আপনারা দয়া করে দেখেন, সমস্যাটা কী। এখনো আছে। এখান থেকেই সমস্যাটার শুরু হইছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here