টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা

160

কামাল হোসেন, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল জলোর  ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবিস্থিত নিকরাইল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র । এ দুই উপজেলার ১০-১২ টি গ্রামের মানুষের একমাত্র চিকিৎসার ভরসাস্থল হিসেবে প্রতিদিন শত শত রোগী আসে  এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে।

কিন্তু এই হাসপাতালে  চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ না পেয়ে তাদের যেতে হচ্ছে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে। এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন এমবিবিএস ডাক্তার বরাদ্দ থাকলেও তার দেখা পাননি রোগীরা। সরজমিনে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, কয়েড়া, আমুলা, আকালু, চর কয়েড়া, নলুয়া এবং কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল, মাইজবাড়ি, গোহালিয়া বাড়ি, যোকারচরসহ ১০-১২ গ্রামের সাধারন মানুয়ের চিকিৎসার ভরসাস্থল নিকরাইল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

প্রতিদিন শত শত রোগী আসে নদী ভাঙ্গা চরাঞ্চল থেকে  চিকিৎসা নিতে। কিন্তু এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির খুবই করুণ দশা।কিন্ত দু:খ জনক হলেও সত্য হাসপাতাল নয় এযেন আসমানীদের ভেন্নাপাতায় গড়া  ভাঙা এ ঘরটিতে একটু বৃষ্টি হলেই মেঝেতে পানি জমে থাকে একটু হাওয়া দিলেই যেনো নড়ভর করে। ওষুধ রাখার আসবাবপত্র গুলোরও বেহাল দশা। নেই কোন বেডের ব্যবস্থা। রোগী আসলে মেঝে অথবা বেঞ্চে শইয়ে রাখা হয়। এক কথায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রর ভিতরে চিকিৎসার কোন পরিবেশ নেই বললেই চলে। এদিকে এন্টিবায়োটিক ও আয়রন ট্যাবলেট ছাড়া আর কোন ওষুধ সরবরাহ হয়না এখানে।

তিনমাস বন্ধ রয়েছে খাবার স্যলাইন সরবরাহ। নেই প্যারাসিটামল, এন্টাসিডসহ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। ডা. ফৌজিয়া নামে একজন এমবিবিএস বরাদ্দ থাকলেও রোগীরা তাকে এখন পর্যন্ত দেখেনি। এখানে আব্দুল মালেক নামে একজন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার থাকলেও অধিকাংশ সময় তাকে পাওয়া যায়না।

চিকিৎসা নিতে আসা আকালু গ্রামের নাজমা বেগম বলেন, আসছিলাম ছোট বাচ্চা নিয়ে ডাক্তারের কাছে। কিন্তু কোন ওষুধ পাইনি। একটা কাগজ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন এখানে ওষুধ নেই বাইরে ফার্মেসি থেকে কিনতে হবে। নলুয়া গ্রাম থেকে আমজাদ আলী এসেছেন তার স্ত্রীর পেট ব্যথার চিকিৎসা নিতে। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় ভিতরে বেঞ্চেই শুয়ে থাকতে হয় তাকে। আমাজাদ আলী আর নাজমা বেগেমের মতো প্রতিদিন শত শত রোগী আসলেও চিকিৎসা সেবা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। নিকরাইল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সাইদুর রহমান বলেন, হাসপাতাল থেকে ওষুধ না আসলে আমরা কিভাবে দিবো। এন্টিবায়োটিক আর আয়রন ট্যাবলেট ছাড়া আর কোন ওষুধ নেই। উপসহকারি কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আব্দুল মালেক বলেন, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির অবস্থা খুবই খারাপ। ওষুধ নেই চালাবো কেমনে। আসবাবপত্র পত্র ভাঙা। ভিতরে তেলাপোকা আর ইদুরের বাসা।  দ্রæত এর সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে দ্রæত এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সংস্কার করে চিকিৎসা সেবার মান উন্নত ও বরাদ্দকৃত এমবিবিএস ডাক্তারের নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দেয়ার দাবী জানিয়েছেন রোগী ও এলাকাবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here