চীনে বন্দিশিবির বন্ধের দাবি তুরস্কের

79

বিনোদন সংবাদঃ চীনের বন্দিশিবিরে আটকাবস্থায় মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুরেহিম হেয়িতের মৃত্যুর পর ‘নির্যাতন-কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত বন্দিশিবিরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। হেয়িতের মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। চীনের ওই বন্দিশিবিরগুলোয় নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তুরস্ক।

রোববার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, চীনে সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুর সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুরেহিম হেয়িতের মৃত্যুর ব্যাপারে চীন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে গতকাল শনিবার বন্দিশিবিরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁর একটি গানের কারণে চীন সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। ২০১৭ সালে তাঁকে আটক করে জিনজিয়াং প্রদেশে বন্দিশিবিরে রাখা হয়। তাঁকে আট বছরের জেল দেওয়া হয় বলে ধারণা করা হয়। তবে বন্দী অবস্থায় দ্বিতীয় বছরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। জিনজিয়াং প্রদেশে কমপক্ষে ১০ লাখ উইঘুর বন্দিশিবিরে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে চীনের ‘সন্ত্রাসবাদ’ কেন্দ্রগুলোয় আটক রাখা হয়েছে। ২০ লাখ মানুষকে ‘রাজনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিবেচনার শিবিরে’ অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। চীন সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। কমিটির প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদও জানায় সি চিন পিংয়ের দেশ।

আবদুরেহিম হেয়িত জনপ্রিয় ‘দোতার’ শিল্পী হিসেবেই খ্যাতনামা ছিলেন। তিনি বেইজিংয়ে সংগীত বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ‘জনক’ শিরোনামে একটি গানের জন্য তাঁকে আটক করা হয়। উইঘুর সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে শ্রদ্ধাশীল হতে অনুপ্রেরণামূলক গান ছিল সেটি। ‘উইঘুর’ কবিতা থেকে গানের কথা নেওয়া হয়েছিল। গানের এক জায়গায় ব্যবহৃত ‘যুদ্ধের শহীদেরা’ শব্দ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয় চীন কর্তৃপক্ষ। হেয়িত সন্ত্রাসবাদকে এই গানের মাধ্যমে উসকানি দিয়েছেন বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ।

হেয়িতের মৃত্যুর পর গতকাল শনিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় এক বিবৃতিতে বলেন, এটা এখন আর গোপন নেই যে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে বন্দী রাখা হয়েছে। এটাকে মানবতার জন্য লজ্জাকর উল্লেখ করে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় বন্ধে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছর আগের। মূলত, এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্তান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চারপাশে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে।

সিআইএর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক অনুযায়ী চীনের মোট জনসংখ্যার ১ থেকে ২ শতাংশ মুসলিম। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৯ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, এসব দেশের মধ্যে চীনের জিনজিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে। কাজাখস্তানে ২ লাখ ২৩ হাজার, উজবেকিস্তানে ৫৫ হাজার, কিরগিজস্তানে ৪৯ হাজার, তুরস্কে ১৯ হাজার, রাশিয়ায় চার হাজার, ইউক্রেনে এক হাজারের মতো উইঘুর সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here