চাটমোহরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

18

চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর এলাকা থেকে শীতের দিনে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গাছিরা। খেজুরের রস বিক্রি করে সংসার চালাতেন অনেকেই। কিন্তু ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় এখন হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছ। তবে শীতের আমেজ পড়ার সাথে সাথে অবশিষ্ট খেজুর গাছ কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বেশ কিছু এলাকার রাস্তার দুই পাশে খেজুর গাছের সারি। গাছিরা সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছ কাটতে। উপজেলার গুনাইগাছা, নিমাইচড়া, হান্ডিয়াল, ছাইকোলা, ডিবিগ্রাম, পার্শ্বডাঙ্গা ও মূলগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম মিলিয়ে কয়েক হাজার খেজুরের গাছ রয়েছে।

তবে এলাকায় গাছির সংখ্যা কম থাকায় ওই সব গ্রামে রাজশাহী ও নাটোর থেকে গাছিরা এসে মাঠের মধ্যে তাবু গেড়েছেন। পুরোপুরি শীত না পড়তেই খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন গাছিরা। তাদের নিপুণ হাতে গাছ চাঁছা-ছেলা করছেন। আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই গাছে আসবে রস। রস থেকে তারা তৈরি করবেন পাটালি, লালীসহ নানা ধরণের গুড়।

অর্ধশতাধিক গাছি ৩ মাসব্যাপী খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করবেন। প্রতিদিনি ভোরে রস নিয়ে মাটির পাতিল বা কলসে গ্রাম বা শহরে বিক্রি করবেন। আর বিক্রিত টাকা দিয়ে গাছিদের চলবে পুরো পরিবার।

কথা হয় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে চাটমোহরের মথুরাপুর গ্রামে রস সংগ্রহে আসা ‘গাছি’ আইয়ুব আলী, আমিন উদ্দিন ও রফিকুল ইসলামের সাথে।

তারা জানান, চলনবিল এলাকার রস সুস্বাদু হওয়ায় তারা প্রতিবছর চাটমোহরের বিভিন্ন গ্রামে আসেন। রাস্তার পাশে গাছ হলেও জমির মালিকদের কাছ থেকে লিজ নিতে হয়। আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে খেজুর গাছ প্রস্তুত করেন। মাঘ মাস পর্যন্ত চলে রস সংগ্রহ। এরপর ব্যাপারীদের চাহিদা মতো তৈরি করা হয় গুড়। আর শীতকালে রস ও গুড়ের চাহিদা থাকায় লাভবান হওয়া যায় বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, উপজেলায় এখনও বেশ কিছু খেজুর গাছ রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে গাছ মালিক ও গাছিদের উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তবে সুপরিকল্পিতভাবে সংগ্রহ করতে পারলে আরো বেশি রস সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে জানালেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here