কালিহাতীতে ধর্ষিতা শিশু না ফেরার দেশে

27

কামাল হোসেন,ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)থেকেঃ টাঙ্গাইলের কা‌লিহাতী‌তে ধর্ষ‌ণের এক বছর পর না ফোর দেশে চলেগেলেন ৮ বছর বয়সের সেই শিশু আছিয়াকে।আজ সোমবার ভোররাতে ঢাকায় এক স্বজনের বাসায় সে মারা যায়।

শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হলে তার শারীরিক অবস্থার অবন‌তি হওয়ায় দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থান ক‌রে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছিল শিশু‌টি। গত বছরের  ৯ই জুন কালিহাতী উপ‌জেলার মালতী গ্রামের তায়েজ আলীর ছেলে মাহবুব বি‌ভিন্ন প্র‌লোভন দে‌খি‌য়ে আছিয়া‌কে ডেকে মাহবুব তার নিজের বা‌ড়ি‌তে নি‌য়ে যায়।

এসময়ে শিশু আছিয়াকে ঘ‌রের একটি কক্ষে জোর পূর্বক ধর্ষণ করলে সে গুরুতর অসুস্থ হ‌য়ে পড়ে। প্রথমে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয় আছিয়াকে।প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এক আত্বীয়র বাসায় রেখে অভিবাবকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন।

এ ঘটনায় আছিয়ার বাবা আশরাফ আলী বাদী হ‌য়ে মাহবুবকে আসামি ক‌রে কালিহাতী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা ক‌রেন। প‌রে পু‌লিশ ধর্ষক মাহবুব‌কে গ্রেপ্তার ক‌রে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।এর কিছু‌দিন পর তিনি জা‌মি‌নে বের হ‌য়ে আসেন।

শিশু‌ আছিয়ার নানা হযরত আলী খান প্রতিবেদককে ব‌লেন, ‘ঢাকায় এক আত্মী‌য়ের বাসায় আজ সোমবার ভোর রা‌তে আছিয়া ব্যাথা অনুভব ক‌রে ছটফট কর‌তে থা‌কে।প‌রে হাসপাতা‌লে নেওয়ার আগেই সে মারা যায়।আজ দুপু‌রের দি‌কে তা‌কে গ্রা‌মের বা‌ড়ি উপ‌জেলার মালতী গ্রা‌মে আনা হয়।

লাশ বাড়ীতে নিয়ে আসার পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদ বা‌ড়ি‌তে এসে তার দাফ‌নের ব্যবস্থা গ্রহণ কর‌তে ব‌লেন।’

টাঙ্গাইল জেনা‌রেল হাসপাতা‌লের অন‌স্টোপ ক্রাইসিস সেন্টারের প্রোগ্রাম অফিসার মো. বাইজিদ বলেন, সে সময় ধর্ষ‌ণের ফ‌লে আছিয়ার ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়।

এতে মলদার ও যৌনা‌ঙ্গ ছি‌ড়ে গি‌য়ে এক হ‌য়ে যায়। এতে আট‌টি সেলাই করার পরও তার শারী‌রিক অবস্থা অবন‌তি হওয়ায় ঐ সময় তা‌কে ঢাকা মে‌ডি‌ক্যাল কলেজ (ঢামেক)হাসপাতা‌লে পাঠা‌নো হয়। টানা এক বছর ঢাকায় অবস্থান ক‌রে চি‌কিৎসা নি‌চ্ছিল শিশু‌টি।

কা‌লিহাতী থানা অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হো‌সেন আয়োর নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে  বলেন, ‘ধর্ষ‌ণের ঘটনায় সে সময় ধর্ষক মাহবুব‌কে গ্রেফতার ক‌রে কো‌র্টে পাঠানো হ‌য়ে‌ছিল।পু‌লি‌শের প‌ক্ষ থে‌কে আদাল‌তে চার্জশিট দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।বর্তমা‌নে মামলা‌টি বিচারাধীন র‌য়ে‌ছে।

মতামত জানান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here