কতখানি লবন শরীরের জন্য ভাল?

167

বিশেষ সংবাদদাতাঃ লবন বা নুন নিয়ে কতো গল্প রয়েছে,“রয়েছে নুনের গুনাগুন! নুন ছাড়া খাবার মুখেই তোলা যায়না। লবণ সব রসের রাজা। শাস্ত্রে বলা হয়েছে রস ছয় রকমের- মধুর, অম্ল, লবণ, কটু, তিক্ত ও কষা। কিন্তু সব রসের কেন্দ্র হল লবণ। সেইজন্যে লবণকে ‘সবরস’ বলা হয়। লবণ বা নুন ছাড়া সমস্ত মশলা নিরর্থক। লবণ বা নুন হলো সব রসের রাজা। নুন খাওয়া শুরু হয়েছে সভ্যতার আদিযুগ থেকে। আগে নুনের জন্যে কত খণ্ডযুদ্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘকাল যদি নুন না খাওয়া …নিয়ে! কিন্তু তার পরেও প্রতিদিন আপনার জন্য ঠিক কতখানি নুনশরীরের জন্য ভাল? অতিরিক্ত নুন যেমন খাবারকে বিস্বাদ করে তোলে তেমনই ক্ষতি করে শরীলেরও জন্য। উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যা-সহ নানা অসুখ নুনের হাত ধরেই বাসা বাঁধে আপনার আমার শরীলে।

তবে আমরা অনেকেই জানি না ঠিক কতখানি নুন আমাদের শরীলের জন্য প্রয়োজন। এক এক জন মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ তাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে এক এক রকম হয়। তবে এক জন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের শরীরে নুনের পরিমাণ ঠিক কতখানি হলে তা বিপদসীমা ছাড়ায় না তা নিয়ে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র একটি নির্দেশিকা রয়েছে। তা জানার আগে আসুন দেখা যাক, নুন নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি ঠিক কতটা সতর্কতার কথা বলছেন আমাদের চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত নুনে রক্তচাপ তো বাড়েই, তা ছাড়াও  ডেকে আনে আরও নানা অসুখ। ‘আমেরিকান হেলথ অ্যাসোসিয়েশন’-এর গবেষকদের দাবি, শরীরে জল ধরে রাখা নুনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। নুনের পরিমাণ বেড়ে গেলে শরীরে অতিরিক্ত জল জমে যায়, এতে ব্রেনস্ট্রোকের ভয় থেকে যায়। মূত্রের মাধ্যমে বাড়তি নুন শরীর থেকে বার করে। কিন্তু কিডনির কোনও সমস্যা থাকলে সেই বাড়তি নুন শরীর থেকে বেরতে না পেরে মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  অতিরিক্ত নুনে ক্ষয়ে যেতে থাকে হাড়ের ক্যালসিয়াম। তাই অস্থিসন্ধি ও হাড়ের নানাবিধ অসুখে প্রত্যক্ষ ভাবে নুনের ভূমিকা আছে।

আমেরিকান হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট-সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা এর আগে বহু বার দাবি করেছে, কাঁচা নুন মস্তিষ্কের নিউরোনকেও প্রভাবিত করে। এর প্রভাবে কোলন ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো মারণরোগও বাসা বাঁধতে পারে শরীরে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রেও অনেক সময় এই অতিরিক্ত নুন মূল ভূমিকা পালন করে। নুনের সোডিয়াম যে কেবল কিডনি বা যকৃতের ক্ষতি করে এমনই নয়, ওবেসিটি বা মেদবাহুল্যের জন্যও নুন অনেকটাই দায়ী। হার্টের নানা অসুখ, বিশেষ করে ইস্কিমিয়ায় ভোগেন এমনন মানুষদের জন্য অতিরিক্ত নুন ক্ষতি করে। এ ছাড়াও অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্যও অতিরিক্ত নুন ভাল নয়, এর প্রভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় যা তাঁদের অন্তঃস্থ ভ্রূণের উপর প্রভাব ফেলে।তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নুনের পরিমাণ যেমন কমে গেলে সমস্যার, তেমনই তা বেড়ে গেলেও শরীরের প্রভূত ক্ষতি। তাই তাদের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, প্রতি দিন দু’গ্রাম বা হাফ চা চামচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন নুনের পরিমাণ। এড়িয়ে চলুন কাঁচা নুনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here