ঈদ উৎসবে গরমে সূতিতেই ভরসা ক্রেতার

62

খন্দকার শাহীন আফরোজ : মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের বেশি দিন আর বাকি নেই। নতুন জামায় উৎসবের রঙে নিজেদের রাঙাতে পছন্দ করে অনেকে। এ আনন্দকে ছড়িয়ে দিতে অনেকেই মা-বাবা, ভাইবোন, বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য উপহার সামগ্রী ক্রয় করে থাকেন। যার কারণে ঈদের শেষ মুহূর্তে রাজধানীর শপিংমলগুলোতে থাকে উপচেপড়া ভিড়।

সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে যারা হিমশিম খান তাদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে ফুটপাতের দোকানগুলো। রাজধানীর নিউমার্কেট ,ধানমন্ডি বসুন্ধরাসহ আশেপাশের এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ এবং শিশুরাও এতে পিছিয়ে নেই। আর ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকানিরাও মূল্য ছাড়সহ নানা অফার দিচ্ছেন।

নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা মার্কেট, চাঁদনী চক, নুরজাহান, গাউছিয়া,রাফা, এয়িারপ্লাজা,বসুন্ধরা মার্কেটে ক্রেতাদের সমাগমে জমে উঠেছে ঈদবাজার। এ জনসমাগমে বিক্রেতাও দারুণ খুশি। এবার বিক্রি ভালো হবে বলে তারা আশা করছেন।

তবে এই গরমে সুতিতেই ভরসা। ঈদের দিন গরমে স্বস্তি পেতে তুলনামূলক আরাম দায়ক পোশাক কিনছে ক্রেতারা। আর এই গরমে প্রাধান্য পাচ্ছে সুতি ও হালকা কাজের পোশাক। মার্কেট ঘুরে দেখাগেছে, ছেলেদের পছন্দের তালিকায় আছে বরাবরের মতোই পাঞ্জাবি। সূতি কাপড়ই পছন্দ। তবে গলায় ও হাতে হালকা কাজের পাঞ্জাবী বেশ চলছে । চলছে ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবীও কিনছে অনেকে। আবার বড় ঘের হাটুর নিচে থেকে কুচিদেয়া সালোয়ারের সঙ্গে ভারীকাজ করা শর্ট অথবা মাঝারী কামিজ চলছে বেশ। তবে এসব পোশাক বিভিন্ন কাপড়ের তৈরী এই পোশাক এবার নজরও কেড়েছে তরুণীদের। আর ব্যাবসায়ীরও এই পোশাকের নাম দিয়েছেন গারারা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ  ঘুবই নিকটে আসায় বিক্রি আগের চেয়ে বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আশা করি ঈদ পর্যন্ত  বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এতে করে ব্যবসায়ীরাও লাভের মুখ দেখবেন। তাছাড়া ব্যবসায়ীরা সারা বছর এসময়টার জন্যই অপেক্ষা করেন।

তবে ঈদের কাপড় পছন্দ হলেও ক্রেতাদের অনেকেই কিনছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফরহাদ হোসেন ও ফাহাদ বলেন, এখন তাপমাত্রার কারণে কাপড়ও দেখেশুনে কিনতে হচ্ছে। গরমে স্বস্তি দায়ক জামা খুঁজছি।

ধানমন্ডি  এয়ারপ্লাজায়  ঈদের পোশাক কিনতে আসা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আফরোজ তিশা জানান, গরমে হালকা সুতি টাইপের পোশাকেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। সে ধরনের পোশাক কিনতেই তার এখানে আসা।

রোববার বিকেলে  বসুন্ধরা মার্কেটে কথা হয় স্টামর্ফোড ইউনিউভার্সসিটির ছাত্রী আরিয়া আহম্মেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আব্বু-আম্মুসহ পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। সবার জন্য কেনাকাটা মোটামুটি শেষ। তবে এবার পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় কিছুটা বেশি।

তবে, কেনাকাটা করতে এসে ভ্যাপসা গরমে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা। রোজা রেখে  প্রচন্ড গরমে হাঁপিয়ে গেলেও  প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা সে দুর্ভোগ ভুলিয়ে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অনূপ তালুকদার বলেন, গরমে বেশ অস্বস্তি লাগলেও বসুন্ধরাতে এসি থাকাতে তেমন খারাপ লাগছে না,তবে বাহির হলেই অস্তির মধ্যে পড়া। তবে প্রিয়জনদের কিছু দিতে পারার আনন্দ তার কাছে তুচ্ছ।

এদিকে, ঈদকে সামনে রেখে বাহারি রং, মান ও স্টাইলের জুতা নজর কাড়ছে ক্রেতাদের। বাটা, এপেক্স, লোটো ইত্যাদি নামিদামি কোম্পানির শোরুমগুলোর পাশাপাশি ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here