৬৬ বছর পর পাওয়া ‘পরমাণু বোমা’ নিয়ে রহস্য

  • দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে ফেলা হয়েছিল দুটি পরমাণু বোমা.. লিটল বয় এবং ফ্যাট ম্যান। সেসময় যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য খুব বেশি পরমাণু বোমা তৈরি করেনি। জানা যায় ১৯৫০ সালের দিকে একটি পরমাণু বোমা ওই অঞ্চলে নাকি হারিয়ে যায়। পরে সেটির আর সন্ধান মেলেনি।
তবে দীর্ঘ ৬৬টি বছর পর হারানো পরমাণু বোমা রহস্যের সমাধানের দাবি উঠেছে। কানাডার পশ্চিমে ব্রিটিশ কলম্বিয়া উপকূলের কাছে সাগরের নিচে তার সন্ধান পাওয়া গেছে। শন স্মিরিচিনস্কি নামের এক ডুবুরি সাগরতলে বোমাটির সন্ধান পান।

অক্টোবর মাসের দিকে সাগরের নীচে থাকা শশা সংগ্রহ করার সময় বিশাল আকারের ধাতব বস্তু দেখেন তিনি। প্রথম দিকে তিনি মনে করেছিলেন এটি বোধহয় ভিনগ্রহের কোনো যান হবে। পরে বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। অভিযান চালিয়ে কানাডার প্রতিরক্ষা দপ্তর দাবি করে, এটি একটি পরমাণু বোমা।

তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু বোমাবাহী একটি বি-৩৬ বিমান ১৯৫০ সালের দিকে এই এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। সেসময় অনেক খোঁজ করেও বিমানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্ভবত এটাই সেই হারানো বিমানে থাকা পরমাণু বোমা।

বোমাটি খুঁজে পাওয়ার পর শন জানান, সাগরের নিচে যখন তিনি ধাতব বস্তুটি দেখেন তখন বেশ অবাক হয়ে যান। এটি এতোটাই বড় ছিল যে মনে হচ্ছিল যেন বিশাল আকারের কোনো খাট সাগরতলে শুইয়ে রাখা হয়েছে। এসময় তার প্রথমেই মনে হয়েছিল কোনো ভিনগ্রহের যান হবে এটি। বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ খবরও করছিলেন। তবে সেটি কি তা জানতে শনকে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হয়। পরে তারই এক বন্ধু তাকে জানায়, সম্ভবত সে পঞ্চাশের দশকে হারিয়ে যাওয়া পরমাণু বোমার সন্ধান পেয়েছেন।

সেখানকার অনেকেরই জানা ছিল, ১৯৫০ সালে টেক্সাসের কার্সওয়েল বিমানঘাঁটিতে যাওয়ার সময় মার্কিন বোমারু বিমান বি-৩৬ এই অঞ্চলে বিধ্বস্ত হয়। বলা হয়, বিমানটি মার্ক ফোর পরমাণু বোমা নিয়ে একটি গোপন অভিযানে যাচ্ছিল।

তবে উড্ডয়নের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। সেসময় বিমানটিতে ১৭ জন আরোহী ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় ১২ জন প্যারাসুটের মাধ্যমে নিরাপদে অবতরণ করলেও বাকিরা বিমানটির সঙ্গে সঙ্গেই হারিয়ে যান।

পরবর্তীতে অবশ্য মার্কিন সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, বিমানটিতে থাকা বোমাগুলোয় প্লুটোনিয়াম ছিল না। আর তাই বোমাটির বিস্ফোরণের সক্ষমতা নেই। চালক বেরিয়ে যাওয়ার আগে অটোপাইলট মোডে দিয়ে বিমানটিকে মাঝ সাগরে ডুবিয়ে দেয়। ৩ বছর বাদে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেলেও বোমাটি সেখানে ছিল না। বোমাটি খুঁজতে মার্কিন বাহিনী পরে অনেকগুলো অভিযান চালালেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই বোমাটি সবার মাঝে রহস্যের জন্ম দেয়। কেউ কেউ সেসময় মনে করত স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন সম্ভবত এটি হাতিয়ে নিয়েছে।

এদিকে পরমাণু বোমা রহস্যের সমাধান হলেও ব্রিটিশ কলম্বিয়ার এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ ডির্ক সেপটার আরেকটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন। তার দাবি, যেখানে পরমাণু বোমাটি পাওয়া গেছে বলা হচ্ছে তা একেবারেই সঠিক নয়। বিমানটি ওই এলাকার ধারে কাছেও বিধ্বস্ত হয়নি। তাছাড়া এর আগে মার্কিন বাহিনী আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে একাধিকবার অভিযান চালালেও তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তার মতে, মার্কিন বাহিনীর পরমাণু বোমা পাওয়ার বিষয়টি আসলে সাজানো। সেখানে আর যাই থাকুক, সেটা কোনো পরমাণু বোমা নয়।