ফাইল ছবি
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ কর্তব্যরত অবস্থায় গত ২৬ বছরে ১ হাজার ২৬৭ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উল্লিখিত পুলিশের সদস্যগণ নিহত হন। এদের মধ্যে বিভিন্ন পদবীর কর্মকর্তাগণও রয়েছেন। আর এসব নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গত ২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন ও গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম নিহতের ঘটনাটি অন্যতম। আর গত ২০১৭ সালেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান ও জনগণের জানমাল রক্ষাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নিহত এসব পুলিশ সদস্যদের স্মরণে প্রতি বছর ১ মার্চ ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর এসব সদস্যদের স্মরণে দেশব্যাপী সকল পুলিশ ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় এই ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ পুলিশের সকল রেঞ্জ, সকল জেলা পর্যায়েও দিনটি পালন করা হচ্ছে। আর পুলিশের এই দিবসটিতে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্রেস্ট, সনদপত্র, নগর অর্থ এবং উপহার দেওয়া হয়।পুলিশ সদর দপ্তরের অপর এক সূত্র জানায়, গত ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশের সহকারী কমিশনার, পুলিশ পরিদর্শক, এসআই, সার্জেন্ট, এএসআই, নায়েক ও কনস্টেবলসহ মোট ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। আর গত ২০১৭ সালেই ১৩০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান নামের একজন সহকারী পুলিশ সুপার ও ৭ জন পরির্দশক ছিলেন। আর ৮৭ জনই পুলিশ কনস্টেবল। আর ৮ জন পুলিশের সহকারী পরিদর্শক (এসআই) রয়েছে। এছাড়া ১৭ উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই)। জঙ্গি হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় এসব পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।গত ২০১৬ সালে মোট ৭৬ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মো. রবিউল করিম নামে একজন সিনিয়র সহকারী কমিশনার ছিলেন। আর সার্জেন্ট ও সহকারী পরিদর্শক ছিলেন ৯ জন। আর গত ২০১৫ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপালনরত অবস্থায় জঙ্গি হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় মোট ১২৬ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৬ জন পুলিশ কনস্টেবল ও নায়েক রয়েছেন। আর বাকি ৩২ জনের মধ্যে বিভিন্ন পদবীর কর্মকর্তা ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এক সূত্র জানায়, গত ১৯৯২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৬ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের কনস্টেবলসহ বিভিন্ন পদবীর কর্মকর্তাগণ সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদের হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আর এসব পুলিশ কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করতে প্রতি বছর ১ মার্চ পুলিশের পক্ষ থেকে স্মরণ করতে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে’ পালন করা হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও দিবসটি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে নিহত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।
আর দেশে জঙ্গি হামলার ঘটনার মধ্যে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ঘটনাটি সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা। ওই জঙ্গি হামলার ঘটনাটি গত ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ঘটে। এ ঘটনায় তৎকালীন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম নিহত হন। আর ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য নিহত হন। প্রথমদিকে হামলার দায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) স্বীকার করে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করে। আর ওইদিন দিবাগত রাত নয়টার দিকে গুলশানের ওই রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় জঙ্গিরা। আগ্নেয়াস্ত্র ও তলোয়ার নিয়ে ভেতরে ঢুকে সেখানে অবস্থানরত লোকজনকে জিম্মি করে ফেলে তারা। জিম্মিদের মধ্যে দেশি ও বিদেশি নাগরিকরাও ছিল। এসময় জঙ্গিরা এলোপাতাড়ি গুলিও ছোড়ে। খবর পেয়ে র?্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। তাদের সঙ্গে জঙ্গিদের গোলাগুলি চলে। এতে অন্তত ৫০ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। পরে ওইদিন রাত সোয়া একটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডিবির রবিউল ইসলাম মারা যান। একই রাতে জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় বনানী থানার ওসি সালাহউদ্দিন নিহত হন। এ ঘটনায় এডিসি আহাদ, গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) রফিক ও এসআই জিয়া, ভাটারা থানার পরিদর্শক ইয়াছিনসহ অন্তত ৫০ জন পুলিশকে আহত অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার সময় পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, জঙ্গিদের বোমা ও গুলিতে পুলিশের অন্তত ১৯ জন সদস্য রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎ?সা নেয়।