দেশে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকসংখ্যা এক মাসের ব্যবধানে ৯২ লাখ কমে গেছে। একই সময়ে দেশে ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যাও ১৭ লাখ কমেছে। এসব ইন্টারনেট সংযোগের বেশির ভাগই আবার মোবাইল ফোনভিত্তিক।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের এ চিত্র উঠে এসেছে।

বিটিআরসির আগস্ট মাসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় মোবাইল ফোন সংযোগের সংখ্যা ১১ কোটি ৯৭ লাখ; যা চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ। দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক সক্রিয় সিম ছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময় সক্রিয় সিম ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। এরপর আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে (বায়োমেট্রিক) সিম পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কমতে শুরু করে সিমের সংখ্যা।

গত ৩১ মে আঙুলের ছাপ পদ্ধতিতে (বায়োমেট্রিক) সিম পুনর্নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এক কোটির বেশি অনিবন্ধিত সিম বন্ধ করা হয়েছে। বিটিআরসির নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম বন্ধ হলেও ৯০ দিন বা তিন মাস পর্যন্ত সেটিকে সক্রিয় হিসেবে ধরা হয়। এ কারণে জুন, জুলাইয়ের পরিসংখ্যানে সিমের সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রভাব সেভাবে পড়েনি। আগস্টের ৩১ তারিখে ৯০ দিন সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এ মাসের হিসাবে সিম বন্ধের প্রভাবটি পড়েছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইল ফোনের সক্রিয় সংযোগ কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ, আগে অনেক ব্যবহারকারী প্রয়োজনের বেশি একাধিক সিম রাখতেন। বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে আমরা একটি সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল তথ্যভান্ডার পেয়েছি।

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সংযোগসংখ্যা আগস্টে ১৮ লাখ কমেছে। জুলাইয়ে অপারেটরটির সংযোগসংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ, সেটি এখন কমে ৫ কোটি ৪৫ লাখ হয়েছে। একই সময়ে বাংলালিংকের সংযোগসংখ্যাও কমে তিন কোটির নিচে চলে এসেছে। জুলাইয়ে বাংলালিংকের সংযোগ ছিল ৩ কোটি ২১ লাখ, যা আগস্টে কমে হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ।

একীভূত হওয়ার অনুমোদন পাওয়া দুই অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের সংযোগসংখ্যাও আগস্টে কমেছে। রবির সংযোগসংখ্যা এ সময়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ থেকে কমে ২ কোটি ৩২ লাখ হয়েছে। আর এয়ারটেলের সংযোগসংখ্যা ৯৩ লাখ থেকে কমে ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের প্রথম মুঠোফোন অপারেটর সিটিসেলের সংযোগসংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৬৮ হাজার।

সব বেসরকারি অপারেটরের সংযোগ কমলেও অপরিবর্তিত আছে সরকারি অপারেটর টেলিটকের সিমের সংখ্যা। আগস্টে অপারেটরটির সিমের সংখ্যা জুলাইয়ের মতোই ৪৪ লাখ ৩৭ হাজারে অপরিবর্তিত আছে। অথচ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন না হওয়া প্রায় ২২ লাখ সিম বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে বিটিআরসিকে চিঠি দিয়েছে টেলিটক।

টেলিটকের সংযোগসংখ্যা না কমার বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অন্য অপারেটররা ৩১ মের সময়সীমা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিম বন্ধ করেছে। টেলিটক সিমগুলো বন্ধ করতে একটু বেশি সময় নিয়েছে। তাই তাদের সংযোগ কমার চিত্রটি সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানে উঠে আসবে।

ইন্টারনেট সংযোগ: আগস্টে দেশে ইন্টারনেট সংযোগসংখ্যা ৬ কোটি ৩৯ লাখ থেকে কমে ৬ কোটি ২২ লাখ হয়েছে। এ সময়ে মুঠোফোন ইন্টারনেট সংযোগ ৬ কোটি থেকে কমে ৫ কোটি ৮৩ লাখে নেমে এসেছে। তবে পিএসটিএন ও ওয়াইম্যাক্স ইন্টারনেট সংযোগ আগের মতোই আছে।