১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

0
269
Smiley face

একটি বেসরকারি অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান বাগেরহাটের পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের অন্তত ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকেরা এই অভিযোগ করেন।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘দি ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেড’। এর চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন চৌধুরী। বাড়ি পিরোজপুরের শিকারপুর গ্রামে। ২০১২ সালে বাগেরহাট শহরের সাধনার মোড়ে সফি মার্কেটের তিনতলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৪টি শাখা রয়েছে বলে তাদের একটি প্রকাশনা থেকে জানা গেছে। গ্রাহকদের সূত্রে জানা গেছে, মুনাফা তো নয়ই, তাঁদের আমানতের টাকাই ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে ১১৫ জন গ্রাহক প্রত্যেকে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা জমা রেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তত ৩৫ জন ভুক্তভোগী গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাগেরহাট শহরের পত্রিকার এজেন্ট মোকাদ্দেস আলী। এতে বলা হয়, শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি আকর্ষণীয় মুনাফার লোভ দেখায়। এর মধ্যে ফিক্সড ডিপোজিটে ১ লাখ টাকা ৩ বছরের জন্য জমা রাখলে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে লভ্যাংশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। লাভের আশায় বাগেরহাটের নানা শ্রেণি-পেশার কয়েক শ মানুষ গ্রাহক হন। কিন্তু গত মার্চে কয়েকজন গ্রাহক আমানতের টাকা ফেরত চান। তখন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নিহার রঞ্জন হালদার গড়িমসি করেন। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে ভারত চলে যান। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে বাসুদেব দেসহ কয়েকজন গ্রাহক নিহার রঞ্জনকে ভারত থেকে ধরে এনে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে সোপর্দ করেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিকে শহরের সাধনার মোড় এলাকা থেকে কার্যালয় সরিয়ে দশানী এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে নেওয়া হয়েছে। স্বাধীন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে সেখানে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোকাদ্দেস আলী বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে আমি প্রথমে ১ লাখ টাকা জমা রাখি। এর দুই মাস পর আরও ২ লাখ টাকা নিয়ে জমা রাখি। এরপর একবার আমি (চার মাসে) ২৪ হাজার টাকা লভ্যাংশ পাই। এখন লভ্যাংশ তো দূরের কথা, আসলও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।’

গ্রাহক অনিমা রায় বলেন, ‘আমার বাবা বাগেরহাটের কাড়াপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুনীল কৃষ্ণ রায়। অবসরে যাওয়ার পর ৮ লাখ টাকা এই ব্যাংকে জমা রেখেছিলেন। এখন টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।’

সদর উপজেলার পশ্চিমডাঙ্গা গ্রামের হাসিব হাওলাদার বলেন, ‘গত বছর দুই দফায় ৬ লাখ টাকা জমা করি। এরপর আমার বোন শাহীনুর বেগম ৩ লাখ টাকা জমা দেয়। প্রথম ছয় মাস আমি মাসে লাখে ২ হাজার করে মুনাফা (লভ্যাংশ) পাই। কিছুদিন পরে টাকা দিতে টালবাহানা শুরু হয়। তখন আমি আমার টাকা ফেরত চাই। এই টাকা ফেরত পেতে চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করি। মামলাটি বিচারক আমলে নিয়ে তা তদন্ত করতে ডিবিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখনো তদন্ত শেষ শেষ হয়নি।’

দি ঢাকা আরবান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে গতকাল দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে একজন নারী রিসিভ করেন। তবে রং নম্বর বলে কেটে দেন।

প্রতিষ্ঠানটির বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক স্বাধীন শেখ বলেন, ‘গত ২৯ মার্চ আমাকে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি ইতিমধ্যে ২১৫ জন গ্রাহককে অন্তত ১৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে অন্যদের টাকাও ফেরত দিতে কাজ করছি। আগের ব্যবস্থাপক নিহার রঞ্জন তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গত আগস্ট থেকে তিনি লাপাত্তা।’

পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় বলেন, ‘অর্থ লগ্নিকারী কোনো প্রতিষ্ঠান তার বৈধ অনুমতি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আমার কাছে এলে আমি আইনি সহযোগিতা দেব।’

ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান বলেন, ‘কোনো অর্থ লগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানটির অনুমতি আছে কি না বা বাগেরহাটে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আমরা অবহিত নই।

LEAVE A REPLY